পুরানো কলকাতার চালচিত্র

  • Home
  • India
  • KOLKATA
  • পুরানো কলকাতার চালচিত্র

পুরানো কলকাতার চালচিত্র ১৪ এপ্রিল'২০১৩ সাল থেকে
শুধু মাত্র কলকাতা সহ বাংলার, আর বাংলার সাথে যুক্ত অঞ্চলের ইতিহাসের ওপর একমাত্র প্রথম পেজ ।
(402)

কলকাতার ইতিহাস
------------------------
কলকাতার নিকটবর্তী চন্দ্রকেতুগড়ে (চব্বিশ পরগনা জেলায় এবং কলকাতা শহর থেকে ৩৫ কিলোমিটার উত্তরপূর্ব দিকে একদা ভাগীরথী নদীর অন্যতম প্রবাহ বিদ্যাধরী নদীর কূল ঘেঁষে এর অবস্থান।) প্রত্নতাত্ত্বিক খননকার্য চালিয়ে প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে যে এই অঞ্চলটি বিগত দুই হাজার বছরেরও বেশি সময়কাল ধরে জনবসতিপূর্ণ। মধ্যযুগীয় বাংলা সাহিত্যের একাধিক গ্রন্থে হুগলি নদীর তীরবর্তী কলি

কাতা গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায়। এগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বিপ্রদাস পিপলাইয়ের মনসাবিজয় কাব্য (১৪৯৫ খ্রি.), মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর কবিকঙ্কণ চণ্ডী (১৫৯৪-১৬০৬ খ্রি.), সৈয়দ আলাওলের পদ্মাবতী (১৬৪৫–৫২ খ্রি.), কৃষ্ণরাম দাসের কালিকামঙ্গল (১৬৭৬–৭৭ খ্রি.), সনাতন ঘোষালের ভাষা-ভাগবত (১৬৭৯–৮০ খ্রি.) ও কৃষ্ণদাসের নারদপুরাণ (১৬৯২ খ্রি.)। ১৫৮২ সালে রাজা টোডরমলের নির্দেশে সমগ্র বাংলা সুবা (প্রদেশ) জরিপ করে ওয়ালিশ-ই-জমা তুমার নামে একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়। আবুল ফজলের আইন-ই-আকবরি (১৫৯০ খ্রি.) গ্রন্থে উদ্ধৃত এই তালিকাটিতে "কলিকাতা" গ্রামটির উল্লেখ রয়েছে।এছাড়াও গোলাম হোসেন সেলিম রচিত রিয়াজ-উস-সালাতিন (১৭৮৬ খ্রি.) নামক একটি ফার্সি গ্রন্থেও "কলিকাতা" গ্রামের উল্লেখ রয়েছে।

১৫৩০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ বাংলায় পর্তুগিজদের যাতায়াত শুরু হয়। সেযুগে টালির নালা ( মারহাট্টা ডিচ) বা আদিগঙ্গা ছিল সমুদ্রে যাতায়াতের পথ। সমুদ্রগামী বড়ো বড়ো জাহাজগুলি এখন যেখানে গার্ডেনরিচ, সেই অঞ্চলে নোঙর ফেলত। কেবল মাত্র দেশি ছোটো নৌকাগুলিই হুগলি নদীর আরো উজানের দিকে চলাচল করত। সরস্বতী নদী ছিল এই সময়কার আরও একটি জলপথ। এই নদী ষোড়শ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে শুকিয়ে যেতে শুরু করে।

সপ্তদশ শতাব্দীর শেষভাগে যে-তিনটি গ্রাম নিয়ে কলকাতা শহর গড়ে উঠেছিল, গোবিন্দপুর ছিল তার অন্যতম। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, অপর দুটি গ্রাম ছিল সুতানুটি ও ডিহি কলিকাতা। কলকাতা মহানগরীর প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে সুতানুটি ও ডিহি কলিকাতা তাদের নিজস্ব পরিচিতি হারায়; এবং নতুন ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গ নির্মাণের সময় গোবিন্দপুর গ্রামটি ধ্বংস করে ফেলা হয়।

গোবিন্দপুর গ্রামের নামকরণ প্রসঙ্গে আরও একটি গল্প প্রচলিত আছে: গোবিন্দ দত্ত নামে এক ব্যক্তি এই অঞ্চলের উপর দিয়ে তীর্থে যাচ্ছিলেন। দেবী কালী তাঁকে স্বপ্নে দর্শন দিয়ে আদেশ করেন নদীর তীরবর্তী পরিত্যক্ত ভূভাগ খনন করতে। স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী কাজ করে তিনি মাটির তলা থেকে প্রচুর ধনসম্পত্তি উদ্ধার করেন। গোবিন্দ দত্ত এখানেই থেকে যান এবং তাঁর নামানুসারেই গ্রামের নামকরণ হয় গোবিন্দপুর।

জব চার্নক সুতানুটির নিরাপদ অবস্থানের জন্য সেখানেই বসতি স্থাপন করেন। সেই যুগে সুতানুটি পশ্চিমে হুগলি নদী এবং পূর্বে ও দক্ষিণে দুর্গম জলাভূমির দ্বারা বেষ্টিত ছিল। কেবলমাত্র উত্তর-পূর্ব অংশে প্রহরার প্রয়োজন হত।

সুতানুটি, ডিহি কলিকাতা ও গোবিন্দপুর ছিল মুঘল সম্রাটের খাসমহল অর্থাৎ সম্রাটের নিজস্ব জায়গির বা ভূসম্পত্তি। এই অঞ্চলের জমিদারির দায়িত্ব ছিল বড়িশার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের উপর। ১৬৯৮ সালের ১০ নভেম্বর জব চার্নকের উত্তরসূরি তথা জামাতা চার্লস আয়ার সাবর্ণ রায়চৌধুরী পরিবারের থেকে এই তিনটি গ্রামের জমিদারির অধিকার কিনে নেন। এরপরই কলকাতা মহানগর দ্রুত বিকাশ লাভ করে। ১৭৫৭ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নিয়মিত এই অঞ্চলের রাজস্ব মুঘল সম্রাটকে দিয়ে এসেছিল।

বাংলার নবাব সিরাজদ্দৌলা কলকাতায় দুর্গপ্রতিষ্ঠা ও সামরিক আয়োজনে অসন্তুষ্ট হয়ে ১৭৫৬ সালে কলকাতা আক্রমণ ও অধিকার করে নেন। এই সময় ইংরেজরাই গোবিন্দপুরে অগ্নিসংযোগ করে গ্রামটি জ্বালিয়ে দেয়। নদীর চল্লিশ মাইল ভাটিতে ফলতায় তারা সাময়িকভাবে আশ্রয় নেয়। ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন পলাশীর যুদ্ধে জয়লাভ করার পরই তারা কলকাতার অধিকার পুনরায় ফিরে পেয়েছিল।

কলকাতায় ফিরে এসে ব্রিটিশরা যে কাজটি করেছিল তা হল ফোর্ট উইলিয়াম দুর্গের পুনর্নির্মাণ। ১৭৫৮ সালে এই কাজ শুরু হয়; শেষ হয় ১৭৭৩ সালে। দুর্গনির্মাণের জন্য বেছে নেওয়া হয় ‘বর্ধিষ্ণু’ গোবিন্দপুর গ্রামের কেন্দ্রীয় অঞ্চলটিকে। ‘ক্ষতিপূরণ অর্থে’র একাংশ খরচ করা হয় দুর্গনির্মাণের জন্য জমিদাতাদের তালতলা, কুমারটুলি ও শোভাবাজার অঞ্চলে জমিদান করার জন্য।

সুতানুটি (পুরনো ইংরেজি বানানে Suttanuttee) । খ্রিস্টীয় সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে সুতানুটি ও তার পার্শ্ববর্তী দুটি গ্রাম কলিকাতা ও গোবিন্দপুরকে নিয়ে আধুনিক কলকাতা শহরটি গড়ে উঠেছিল। ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির প্রশাসক জোব চার্নক (ইংরেজি ঐতিহাসিকেরা যাঁকে "কলকাতার জনক" আখ্যা দিয়েছিলেন) এই গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করেছিলেন।

বর্তমান উত্তর কলকাতার বাগবাজার, শ্যামবাজার ও তার আশেপাশের এলাকাগুলিই অতীতে সুতানুটি গ্রাম নামে পরিচিত ছিল। গোবিন্দপুর, সুতানুটি, ও ডিহি কলকাতা (এ ছাড়াও কালীঘাট ও চিৎপুর) নিয়ে তৈরি হয় অধুনা কলকাতা ও সালকিয়া ও বেতড় (হাওড়ার শিবপুরের কাছে) অঞ্চল নিয়ে তৈরি হয় হাওড়া ।

সুতানুটি ও বেতড় দুটি গ্রামই ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যকেন্দ্র। সপ্তদশ শতাব্দীতে কলকাতা ও তার আশেপাশের অঞ্চলে যখন নগরায়ণ শুরু হয়, তখন এই দুটি গ্রাম যথাক্রমে কলকাতা ও হাওড়া মহানগরীর মধ্যে বিলীন হয়ে যায়।

চেনা পরিচিত কলেজ স্কোয়ার অপরিচিত রূপে ।কলেজ স্কোয়ার, কলেজ স্ট্রীট, কলিকাতা ১৮৯০
11/06/2026

চেনা পরিচিত কলেজ স্কোয়ার অপরিচিত রূপে ।
কলেজ স্কোয়ার, কলেজ স্ট্রীট, কলিকাতা ১৮৯০

রাইটার্স বিল্ডিংস, কলিকাতা, ১৮৮৫Writers Buildings,Calcutta, 1885টমাস লায়ন্স ... ১৭৭০ সালে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংসের ...
11/06/2026

রাইটার্স বিল্ডিংস, কলিকাতা, ১৮৮৫
Writers Buildings,Calcutta, 1885

টমাস লায়ন্স ... ১৭৭০ সালে ঐতিহাসিক রাইটার্স বিল্ডিংসের নকশা প্রস্তুত করেছিলেন । ১৭৭৬ সালে লায়ন্স ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ইউরোপীয় কেরানিদের বসবাসের জন্য উনিশটি পৃথক অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি করেন। এই কেরানিদের বলা হত রাইটার। এদের নাম থেকেই ভবনের নাম রাইটার্স বিল্ডিংস-এর উদ্ভব। ভবনের সম্মুখভাগে করিন্থীয় স্থাপত্য নব্য রেনেসাঁ স্থাপত্যশৈলীর একটি উদাহরণ। প্রধান প্রবেশদ্বারের শীর্ষে ব্রিটানিয়ার একটি মূর্তিও স্থাপিত হয়।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের সঙ্গে রাইটার্স বিল্ডিংসের নাম নানাভাবে জড়িত। ১৯৩০ সালের ৮ নভেম্বর বিপ্লবী বিনয় বসু, বাদল গুপ্ত ও দীনেশ গুপ্ত রাইটার্স বিল্ডিংসে এক দুঃসাহসিক অভিযান চালিয়ে কারাবিভাগের প্রধান এন. জি. সিম্পসনকে হত্যা করেন। এই ঘটনার অব্যবহিত পরে ভবনের অলিন্দে নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে বিপ্লবী-ত্রয়ীর যে সংঘর্ষ হয় তা "মহাকরণের অলিন্দ যুদ্ধ" নামে প্রসিদ্ধ। সংঘর্ষের শেষে গ্রেফতারি এড়াতে বাদল গুপ্ত সেখানেই আত্মহত্যা করেন।
সুত্রঃ কলকাতা: একাল ও সেকাল, রথীন মিত্র :
এক পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস, অতুল সুর :

#পুরানো_কলকাতার_চালচিত্র

11/06/2026

স্কুল কলেজে মোবাইল নিষিদ্ধ করা হোক ! ছাত্র ছাত্রী বা শিক্ষক শিক্ষিকা সবার জন্য ! গেটে জমা রেখে ভেতরে প্রবেশ করতে হবে !

দক্ষিণেশ্বর কালীমায়ের মন্দিরের শিব মন্দির, বঙ্গ, ১৮৮০  Shiva Temples at Dakshineswar Kalimata Temple, Bengal,1880
11/06/2026

দক্ষিণেশ্বর কালীমায়ের মন্দিরের শিব মন্দির, বঙ্গ, ১৮৮০
Shiva Temples at Dakshineswar Kalimata Temple, Bengal,1880

11/06/2026

আগের মতো পাড়ায় পাড়ায় বই এর লাইব্রেরি চালু হোক! গত 15 বছরে ইচ্ছাকৃত ভাবে একে একে সব বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল!

প্রাচীন কলিকাতার কলেজ স্ট্রিট অঞ্চল, কলিকাতা, ১৮৭০-৮০
10/06/2026

প্রাচীন কলিকাতার কলেজ স্ট্রিট অঞ্চল, কলিকাতা, ১৮৭০-৮০

শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়, কলিকাতা, ১৯৩০Shyambazar 5 point, Calcutta ( Kolkata), 1930
10/06/2026

শ্যামবাজার পাঁচ মাথার মোড়, কলিকাতা, ১৯৩০
Shyambazar 5 point, Calcutta ( Kolkata), 1930

হাওড়া ব্রিজ, কলকাতা ১৯৪৫Howrah Bridge, Calcutta 1945
10/06/2026

হাওড়া ব্রিজ, কলকাতা ১৯৪৫
Howrah Bridge, Calcutta 1945

10/06/2026

বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি স্কুল গুলি চালু করা হোক!আইন করা হোক সরকারি কর্মী মন্ত্রীদের সন্তানদের সরকারি স্কুলে পড়া বাধ্যতা মূলক করা!

কৃত্রিম ভাবে রঙিন করে দিলাম যাতে সেই সময় টা কে যদি নিজের চোখে দেখা যেতো তাহলে কেমন অনুভুতি হতো শুধুমাত্র সেটা জানার জন্য...
09/06/2026

কৃত্রিম ভাবে রঙিন করে দিলাম যাতে সেই সময় টা কে যদি নিজের চোখে দেখা যেতো তাহলে কেমন অনুভুতি হতো শুধুমাত্র সেটা জানার জন্য।

একটি গ্রাম্য পরিবেশ, কলিকাতার সন্নিকটে (উঃ),১৮৬০
ফটোগ্রাফ- স্যামুয়েল বরন্‌
Village Near Calcutta ( n), 1860
Photograph - Samuel Bourne

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when পুরানো কলকাতার চালচিত্র posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Museum

Send a message to পুরানো কলকাতার চালচিত্র:

Share

Category