Natural History Museum, Bangladesh

Natural History Museum, Bangladesh My vision is to establish a Natural History Museum in Bangladesh (Initially @বিজ্ঞান জাদুঘর)

ঢাকার আগারগাঁওয়ে বিজ্ঞান জাদুঘরের বায়োলজি গ্যালারিতে (nmst.gov.bd)৪ টি শোকেসে আমার বিনামূল্যে প্রদানকৃত ফসিল আছে| এই সংগ্রহে পৃথিবীর প্রথম প্রাণ- ব্যাক্টেরিয়ার কলোনী থেকে শুরু করে বর্তমান যুগ পর্যন্ত পৃথিবীর প্রাণের ইতিহাস বর্ণনা করে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে সংগৃহীত কয়েকশো কোটি বছর আগে থেকে শুরু করে কয়েক হাজার বছর আগের ফসিল এখানে প্রদর্শন করা আছে| একটি বাক্সে আছে জুরাসিক-ক্রিটেসিয়াস/ ডাইনোসর যুগ

ের বিভিন্ন স্থলজ-জলজ প্রাণী ও ডাইনোসরের ডিম, হাড় ও দাঁতের ফসিল|এটাই বাংলাদেশের প্রথম জনগণের জন্য উন্মুক্ত ফসিল সংক্রান্ত প্রদর্শনী, যেটা সকল যুগের বিভিন্ন উদ্ভিদ-প্রাণীর ফসিল দিয়ে সমৃদ্ধ| আমার ইচ্ছা এই সংগ্রহ থেকে একটি আরো সমৃদ্ধ Natural History Museum/ প্রাকৃতিক ইতিহাস জাদুঘর গড়ে উঠবে |

দেশের ৭ টি ইউনিভার্সিটিতে আমার কেনা ফসিলের সংগ্রহ থেকে বিনামূল্যে বিভিন্ন পরিমাণ ফসিল দিয়েছি (ঢাকা ইউনিভার্সিটি- ভূতত্ত্ব বিভাগ(প্যালেওন্টোলজি), চিটাগাং ইউনিভার্সিটি জাদুঘর, বরিশাল, কুমিল্লা, জাহাঙ্গীরনগর ইউনিভার্সিটি)|
Each of these University has its own geology lab/Museum.কোথায় কি ফসিল দেয়া হয়েছে তার বিবরণ আমার ওয়েবসাইটে আছে- http://www.amrinazubayer.ca/

এছাড়াও আমরা, জুবায়ের ও আমরিনা, মিরপুর, ঢাকা, আমার কেনা ব্যাক্তিগত সংগ্রহ থেকে বিভিন্ন দেশের বিভিন্ন যুগের ফসিল স্কুল/ কলেজের Biology ল্যাব/ বিজ্ঞান ক্লাবএ প্রদর্শনের জন্য বিনামূল্যে প্রদান করছি

Besides museum displays, I my goal is to encourage hands on knowledge about fossils (and other subjects like anthropology). Bangldesh Goverment's project for Nature museum under National Museum is pending, so this is personal attempt to have the fossils in public displays in Bangladesh focusing on Natural history(the past, with fossils, not current Biodiversity). At present Bangladesh has some Biodiversity Museums (Animals & fish currently present in Bangladesh), which I dont find too popular or easily accessible to public. Examples are: The Zoological Museum of the University of Chittagong (ZMUC)/ Chittagong University Museum, The Fish Museum & Biodiversity Centre (FMBC),Mymensingh and Anatomy Museum & Fisheries Museum at Chattogram Veterinary and Animal Sciences University. The Padma Bridge Museum & the museum inside Dhaka zoo also have many specifimens & stuffed animals. Some of my other personal thoughts I would like to change / impliment in Bangladesh:

On Natural conservation and saving our country’s native species-
দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনকে মেরিন ইকো পার্ক ঘোষণা করে, কিভাবে প্রবাল ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যায় তার জন্য দেশের সব ইউনিভার্সিটির প্রাণীবিদ্যা বিভাগকে উদ্যোগ নিতে হবে। পার্বত্য এলাকায় ময়ূর,ময়না, ধনেশ,কাকাতুয়া, পিঁপীলিকাভুক, নীলগাই, গয়াল,গাউর, মায়া,সাম্বার হরিণের খামার করতে হবে যাতে বিলুপ্ত না হয়| প্রতিটি গ্রামে ১টি করে পুকুর রাখতে হবে দেশী মাছ-প্রাণী সংরক্ষণ করার জন্য|

On Reduction of Vitamin(ভিটামিন/পুষ্টিহীনতা) and mineral deficiencies and planting fruit & medical plants:
Lets Make our country a big fruit orchard (+ vegetable garden) to reduce vitamin deficiency & source of food for the poor. It is possible but there needs to be someone in every corner of the country taking care of these.
দেশের প্রতিটা গ্রামে-উপজেলায়-শহরে রাস্তার পাশে ও কয়েক বিঘার উপর ফলের বাগান রাখতে হবে যা কিনা শুধু মাত্র গরিবদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে, ফল গাছের সাথে সজনে,কচু-আলু,শাকও লাগাতে হবে।
স্পিরুলিনা চাষের পাশাপাশি, চীন-জাপানের মতো আমাদের দেশেও সামুদ্রিক শ্যাওলা/আগাছা (Seaweed -Kelp, nori, kombu, wakame) বাণিজ্যিক উৎপাদন করতে হবে, দেশের উত্তরাঞ্চলের মানুষের কাছে আয়োডিন ও অন্যান্য ভিটামিন ও মিনারেল সমৃদ্ধ সামুদ্রিক খাবার হিসাবে কম মূল্যে পৌঁছে দিতে হবে| দেশের সব বাজারে আয়োডিন ছাড়া লবন বিক্রি নিষিদ্ধ করতে হবে।
We can provide cast iron ingots to poor families to provide dietary supplementation of iron to individuals affected by iron-deficiency anaemia. The ingots are placed in a pot of boiling water to leach elemental iron into the water and food. Fruits with Vitamin C, like green mango / boroi are suggested to be taken after the food. দেশের ধনী -গরীব প্রতিটা পরিবারে একটি লোহার করে/পাতিল নিশ্চিত করতে হবে , যাতে ডাল , তরকারী রান্না করবে। যাদের লোহার হাঁড়ি দেয়া সম্ভব না , তাদের ঢালাই লোহার টুকরা / পেরেক রান্নার সময় দিতে হবে । সেই রান্না লেবু দিয়ে খাবে/ খাবার পর বড়ই/কাঁচা আম/ টক ফল খেতে হবে। দেশ থেকে এনিমিয়া / রক্তশূন্যতা দূর করতে এইটা দেশের সবার জন্য নিশ্চিত করতে হবে ।
দেশের প্রতিটি গ্রামে/ ইউনিয়নে /উপজেলায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (পঞ্চম শ্রেণী >পরের ধাপে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত), সপ্তাহে কমপক্ষে ৪ দিন দুপুরের সবজি/ ডাল দিয়ে খিচুড়ি/ভাত দিতে হবে। ২ দিন ডিম দিতে হবে।

On Bangladesh’s approach towards Technical Education and international IT market:
বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক সাপোর্ট প্রদানকারী আইটি কোম্পানী শুরু করতে হবে। ইংরেজী কথা ভালো বলতে পারলে, ঘরে বসে (International IT support) আইটি সাপোর্ট (যেমন-jobs.crossover.com/) ও পিজ্জা / KFC Virtual কলসেন্টারেও (যেমন: ContractWorld.jobs) বাংলাদেশ থেকে জব করা সম্ভব । কভিড-১৯ এ সব দেশেই অনেক কাজ রিমোট ভাবে করা শুরু হয়েছে ।
সরকারকে এই হোম বেসড আইটি জনশক্তি যেন বাসায় এসি / নন এসি Soundproof রুম তৈরিতে সহায়তা , বাজারে noise cancellation headset ও নিয়মিত শিফট এ কাজ করার মতো নির্ভরযোগ্য কারেন্ট ও ইন্টারনেট পায় সেজন্য সহায়তা করতে হবে।
যদিও ফ্রীল্যানসিং শুরু হয়েছে (ওয়েব ডিজাইন, রাইটার, এড রিডার, gpt job etc এর জন্য UpWork.com,fiverr.com,guru.com,simplyhired.com ইত্যাদি ওয়েবসাইট আছে) কিন্তু তার pay rate অনেক কম ।

দেশের বড় কারখানাগুলোকে বাধ্যতামূলক ভাবে কমপক্ষে দেশের ২টি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে মাস্টার্স ও পিএইচডিতে দূষণ দূরীকরণের জন্য গবেষণার জন্য Funding/ অর্থ প্রদান করতে হবে।
বছরে একদিন কাছের কারিগরি শিক্ষা কেন্দ্রে ক্লাস ৮, ১০ ও ১২ এর ধনী -গরীব সব স্কুল-কলেজ থেকে ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে যাওয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে

08/09/2025
02/09/2025

🛑 Spraying for Mosquitoes is a Scam
• Collateral Damage – Those sprays don’t just kill mosquitoes. They wipe out dragonflies, bees, and butterflies — the very creatures that naturally keep mosquito numbers in check.
• Short-Lived Effect – Chemical sprays only reduce mosquitoes temporarily, while destroying the ecosystem that balances them long-term.
• Better Solutions – Encourage dragonflies, bats, and native birds by creating habitats with water features, pollinator plants, and avoiding pesticides.
• Nature Knows Best – Healthy ecosystems regulate themselves. By protecting pollinators and predators, you get stronger, natural mosquito control — no toxins required.

💚 Choose balance, not chemicals. Protect pollinators, protect yourself.

02/09/2025

🔸বাংলায় দাসপ্রথা : ইতিহাসের এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়!

ইতিহাসের পাতায় আমরা যখন দাসপ্রথার কথা শুনি, তখন চোখের সামনে ভেসে ওঠে আমেরিকার তুলার খেতে শৃঙ্খলিত নিগ্রো দাসদের ছবি, কিংবা আফ্রিকার দাসজাহাজে অমানবিক যাত্রার কাহিনী। কিন্তু আমাদের বাংলাতেও দাসপ্রথা ছিল, এবং তা শুধু সমাজের প্রান্তিক মানুষদের নয়—কখনো কখনো পরিবার, সন্তান, স্ত্রী পর্যন্ত গৃহস্থের জীবিকার যুদ্ধে বিক্রির বস্তু হয়ে উঠেছিল।

🔸দাসপ্রথার সামাজিক বাস্তবতা

বাংলায় দাস ব্যবসা ছিল প্রাচীন প্রথা। একে অমানবিক বলা ছাড়া উপায় নেই, তবে পাশ্চাত্যের তুলনায় এর রূপ কিছুটা ভিন্ন ছিল। এখানে দাস কেনার লক্ষ্য ছিল মূলত কায়িক শ্রম পাওয়া। দাস-দাসীরা গৃহস্থের কাজে নিয়োজিত হতো, জমি-খেতেও পরিশ্রম করত। অনেক সময়ে তারা প্রায় পরিবারের সদস্যের মতোই মর্যাদা পেত। এমনকি ইতিহাসে দেখা যায়, কোনো কোনো মনিব দাসী কন্যাকে নিজের পুত্রের সঙ্গে বিবাহ দিয়ে দিতেন—ফলে সে মুক্তিও পেত। তবে এই মানবিকতার আড়ালে লুকিয়ে ছিল নির্মম বাস্তবতা। অনেক দলিলে স্পষ্ট লেখা আছে যে, দাস বা দাসীর গর্ভজাত সন্তানও মালিকের সম্পত্তি। অর্থাৎ দাসপ্রথা শুধু ব্যক্তির নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এক নিষ্ঠুর দাসত্বের শৃঙ্খল তৈরি করেছিল।

🔸 দারিদ্র্য ও আত্মবিক্রয়ের কাহিনী

অভাবই ছিল দাসপ্রথার সবচেয়ে বড়ো চালিকাশক্তি। দুর্ভিক্ষ, ঋণ, কিংবা অনাহারে জর্জরিত পরিবার অনেক সময়ে নিজেদের সন্তান, এমনকি স্ত্রীকে বিক্রি করত। কেউ কেউ আত্মবিক্রয়ের দলিলে স্বাক্ষরও করত। শুধু সন্তান নয়—সপরিবারে আত্মবিক্রয়-এর নজিরও আছে। জনৈক শুকদেব দে স্ত্রী হরিপ্রিয়া ও পুত্র যুগীরামকে নিয়ে রামকৃষ্ণ শর্মার কাছে আত্মবিক্রয় করেছিলেন। আবার কুঞ্জমালা নামের এক নারী নিজের ও সাত বছরের কন্যাকে মাত্র তিন টাকায় সত্তর বছরের জন্য বিক্রি করেছিলেন। দলিলে মুক্তির শর্ত রাখা ছিল—এক সোয়ামন হলুদ দিলে সে মুক্ত হবে। কিন্তু বিনে পয়সায় খেটে সেই মুক্তিপণ জোগাড় করা কার্যত অসম্ভব ছিল। এই দলিল ইতিহাসের সবচেয়ে হৃদয়বিদারক দলিলগুলির একটি।

🔸 দাসদাসীর দাম ও বাজার

দাসদের দামও তখন সমাজে আলোচ্য বিষয় ছিল।
• ১৪শ শতকে বাংলায় আসা ইবন বতুতা লিখেছিলেন, তিনি মাত্র ১৫ টাকায় এক সুন্দরী মেয়ে কিনেছিলেন।
• ১৮২৩ সালে সমাচার দর্পণ লিখেছে—
• বালকের দাম ৪–১৫ টাকা,
• নারীর দাম ১৬–২৪ টাকা,
• প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের দাম ২৪ থেকে ১৬০ টাকা পর্যন্ত।
অভাব যত বাড়ত, দাম তত কমে যেত। ৭২ অজন্মা দুর্ভিক্ষে অসংখ্য শিশু তিন-চার টাকাতেও বিক্রি হয়েছে। ইতিহাসে উল্লেখ আছে—শ্রীহট্টের রাধানাথ দেব মাত্র তিন টাকায় ছয় বছরের শ্রীমণি নামের এক কন্যাকে কিনেছিলেন।

🔸 অত্যাচার ও পালানোর গল্প

যদিও দেশীয় মনিবরা অনেক সময় দাসদের সঙ্গে মানবিক ব্যবহার করত, তবুও অত্যাচার অস্বীকার করা যায় না। অনেক দাসদাসী অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে পালিয়ে যেত। তখন পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হতো—১৭৯২ সালের একটি বিজ্ঞাপনে লেখা ছিল: "১৫ বছরের দীন-দারা নামে এক দাস ছেলে পালিয়েছে। তার শরীরে আগুনের পোড়া দাগ আছে, পায়ে লোহার বেড়ির ছাপ আছে, আর সে তোতলা। যে তাকে ধরে আনবে, তাকে ৫০ টাকা পুরস্কার দেওয়া হবে।"
এই বিজ্ঞাপন শুধু এক দাসের পরিচয় নয়—এ যেন বাংলার দাসপ্রথার অন্তরালে লুকিয়ে থাকা নিঃশব্দ হাহাকার।

🔸 লোভ, জুয়া ও দাস বিক্রি

সব বিক্রি যে শুধু অভাবের কারণে হতো, তা নয়। লোভও অনেক সময় মানুষকে অমানবিক করে তুলেছিল।
• এক বৈষ্ণবী কন্যাকে ১৫০ টাকায় বিক্রি করেছিলেন শুধুমাত্র অর্থলোভে।
• আবার জুয়ায় হেরে কেউ কেউ স্ত্রী বিক্রির পথ বেছে নিত। ইতিহাসে আছে—এক ব্যক্তি খেলার দেনা মেটাতে নিজের যুবতী স্ত্রীকে দশ টাকায় এক খানকীর কাছে বিক্রি করেছিলেন।

🔸 ইংরেজদের ভূমিকা

ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি এই প্রথাকে কায়েমি করার চেষ্টা করেছিল। কোর্ট হাউসে জনপ্রতি চার টাকা চার আনা শুল্ক দিয়ে দাস রেজিস্ট্রি করার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ইংরেজ মনিবদের কাছে দাস হওয়া মানেই ছিল শৃঙ্খল, মারধর, অমানুষিক পরিশ্রম আর অনাহার।

🔸 অবসান

অবশেষে বাংলায় দাসপ্রথার অবসান হয়েছিল ১৮৪৩ সালের ভারতীয় দাসপ্রথা আইন প্রণয়নের মাধ্যমে, যা ১৮৩৩ সালের চার্টার অ্যাক্ট-এর ভিত্তিতে সমগ্র ব্রিটিশ ভারতে দাসপ্রথাকে অবৈধ ঘোষণা করে। যদিও ভারতে এই প্রথা বিলোপে ব্রিটিশদের ভূমিকা ছিল, এই আইন প্রণয়নের সময় গভর্নর-জেনারেল ছিলেন লর্ড এলেনবরো। তবে তার আগে পর্যন্ত অগণিত মানুষ এই প্রথার শিকার হয়েছিল। কত অশ্রু, কত স্বপ্ন, কত ভগ্ন সংসারের গল্প লুকিয়ে আছে সেই দাস ব্যবসার দলিলের পৃষ্ঠায়, তার হিসেব আজও করা সম্ভব নয়।

বাংলার দাসপ্রথার ইতিহাস কেবল আইনি দলিল বা অর্থনৈতিক বাস্তবতার ইতিহাস নয়—এ ইতিহাস আসলে মানুষের অদম্য টিকে থাকার সংগ্রামের ইতিহাস। অনাহারে জর্জরিত মা নিজের সন্তানকে তিন টাকায় বিক্রি করছে, বা এক নারী সত্তর বছরের জন্য দাসী হয়ে যাচ্ছে—এসব শুধু অতীতের কাহিনী নয়, এ আমাদের সমাজের বিবেককে আজও নাড়া দেয়।
দাসপ্রথা বিলুপ্ত হয়েছে, কিন্তু ইতিহাসের দলিল আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয়—মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকারকে কখনোই অবহেলা করা যায় না।

© Manas Bangla

#বাংলারইতিহাস #দাসপ্রথা #অবহেলিতইতিহাস #ইতিহাসেরপাতা #আঞ্চলিকইতিহাস #মানবতারইতিহাস

19/08/2025

মেঘালয় থেকে বাংলাদেশে এই সাদা পাথর আসার পুরো প্রক্রিয়াটি কয়েকটি ভূতাত্ত্বিক ধাপে সম্পন্ন হয়:

ভারতের মেঘালয় মালভূমি (Meghalaya Plateau) মূলত গ্রানাইট ও নাইস-এর মতো শক্ত শিলা দ্বারা গঠিত।

লক্ষ লক্ষ বছর ধরে বৃষ্টি, বাতাস এবং তাপমাত্রার পরিবর্তনের ফলে এই শক্ত শিলাগুলো ক্ষয় হতে থাকে। এই প্রক্রিয়াতে শিলা থেকে কোয়ার্টজের মতো কঠিন খনিজগুলো আলাদা হয়ে নুড়িতে পরিণত হয়।

বর্ষাকালে বা পাহাড়ি ঢলের সময়, খরস্রোতা পাহাড়ি নদীগুলো (যেমন পিয়াইন ও ধলাই) শক্তি নিয়ে নেমে আসে। এই প্রবল স্রোত তখন ক্ষয়প্রাপ্ত নুড়ি, বালি ও পাথরগুলোকে ঠেলে বাংলাদেশের দিকে নিয়ে আসে।

নদীগুলো যখন মেঘালয়ের খাড়া ঢাল বেয়ে বাংলাদেশের সমতল ভূমিতে প্রবেশ করে, তখন এদের গতি হঠাৎ করে কমে যায়।

ফলে, নদীগুলো আর ভারী পাথর ও নুড়িগুলোকে বহন করতে পারে না। তখন এই পাথরগুলো নদীর বাঁকে বা চরে জমা হতে থাকে। ভোলাগঞ্জ ও জাফলং ঠিক এমনই দুটি স্থান।

এই পুরো প্রক্রিয়াটিকে ভূতত্ত্বের ভাষায় প্লাসার ডিপোজিট (Placer Deposit) বলা হয়।

এখন যেহেতু আমরা জানি এই পাথরগুলো একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ায় সীমান্তে এসে জমা হয়, সেহেতু আমাদের পরবর্তী বিষয়গুলো হলো সম্পদের পরিমাণ (Estimated Resources) এবং খনির প্রকৃতি (Nature of Deposit)।

এই পাথরগুলো কোনো সুরঙ্গ বা গভীর গর্ত খুঁড়ে তৈরি করা খনি থেকে তোলা হয় না।

এগুলো সরাসরি নদীর তলদেশ এবং নদীর তীরে জেগে ওঠা চর থেকে সংগ্রহ করা হয়। তাই এর খনির প্রকৃতি হলো উন্মুক্ত বা সারফেস ডিপোজিট (Open/Surface Deposit)।

ভূতাত্ত্বিক ভাষায়, একে প্লাসার ডিপোজিট (Placer Deposit) বা এলুভিয়াল ডিপোজিট (Alluvial Deposit) বলে, যেখানে মূল্যবান খনিজ (এখানে পাথর) নদীর স্রোতের মাধ্যমে এক জায়গায় জমা হয়।

এর সাথেই আমাদের পরের দুটো বিষয় সম্পর্কিত।

সম্পদ পরিমাণ (Estimated Resources) ও খনির প্রকৃতি (Nature of Deposit)

খনির প্রকৃতি: এটি একটি নবায়নযোগ্য (renewable) ভান্ডার। প্রতি বছর বর্ষায় উজান থেকে নতুন পাথর ভেসে এসে জমা হয়, তাই এর পরিমাণ পুরোপুরি নির্দিষ্ট নয়। পুরনো পাথর তুলে ফেলার পরেও নতুন করে পাথর এসে জমা হয়।

সম্পদ পরিমাণ: যেহেতু এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া, তাই এর মোট পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন। তবে, বাংলাদেশ ভূতাত্ত্বিক জরিপ অধিদপ্তর (GSB) বিভিন্ন সময়ে জরিপ চালিয়েছে। যেমন, শুধু ভোলাগঞ্জেই প্রায় ১০.৬ কোটি ঘনফুট পাথরের মজুদ অনুমান করা হয়েছিল। তবে এই সংখ্যাটি প্রতি বছর বদলায়।

সবচেয়ে বড় মজুদ: সবচেয়ে বড় এবং বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মজুদটি সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ভোলাগঞ্জে অবস্থিত।

ক্ষুদ্র মজুদ: জাফলং, বিছানাকান্দি এবং লোভাছড়ার মতো অন্যান্য স্থানেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মজুদ রয়েছে, তবে ভোলাগঞ্জের তুলনায় কম।

====

উনবিংশ শতকে ব্রিটিশ ভূতত্ত্ববিদরা প্রথম এই স্তরকে বর্ণনা ও মানচিত্রে চিহ্নিত করেন সিলেট অঞ্চলের (তৎকালীন আসাম প্রদেশ) কাছাকাছি এলাকায়, তাই নাম হয় Sylhet Limestone।

আসলে এই স্তর শিলং মালভূমি থেকে শুরু করে মেঘালয়, আসাম ও সিলেট সীমান্ত জুড়ে বিস্তৃত।

খনি মেঘালয়ে হলেও বাংলাদেশ কিভাবে সুবিধা পায়?

মেঘালয়ের পাহাড় থেকে এই পাথর নদীপথে (ধলাই, পিয়াইন, গোয়াইন) নেমে এসে সিলেটের পাদদেশে জমা হয় - প্রাকৃতিক সঞ্চয়ন এলাকা (ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছানাকান্দি ইত্যাদি)।

বাংলাদেশে নদী তীরের এই সঞ্চিত পাথর তুলতে খনি খনন লাগে না, শুধু সংগ্রহ করলেই হয়।

খনি মেঘালয়ে তাহলে তো বেশির ভাগ সম্পদই মেঘালয়েই থেকে যাওয়ার কথা। তাই না?

হ্যাঁ, ভূতাত্ত্বিকভাবে ঠিক তাই - মূল স্তর ও খনির বড় অংশ মেঘালয়ের ভেতরে।

কিন্তু পাথরটা যেহেতু পাহাড়ি নদীর মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে বাংলাদেশে আসে, তাই মেঘালয়ের ভেতরে থেকে গেলেও এর একটা বড় অংশ প্রাকৃতিকভাবে সীমানা পেরিয়ে বাংলাদেশে জমা হয়।

আপনি এইভাবে ধরতে পারেন-

মেঘালয়ে মূল উৎসঃ
চুনাপাথরের স্তর পাহাড়ের ভেতরে থাকে, সেখানে সরাসরি খনন করে পাথর তোলা হয় (ভারতীয় কোম্পানি যেমন Lafarge, Komorrah ইত্যাদি)।
= এগুলো ভারতের বাজারে যায় বা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়।

বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সঞ্চয়নঃ

ভারী বর্ষা + পাহাড়ি নদীর তীব্র স্রোত = পাথর, নুড়ি, বালি পাহাড় থেকে ভেসে এসে সিলেটের ভোলাগঞ্জ, জাফলং, বিছানাকান্দি ইত্যাদিতে জমা হয়। এই অংশ বাংলাদেশে তুলতে আলাদা খনি খনন লাগে না। বাংলাদেশ বিনা খরচে প্রাকৃতিক "ডেলিভারি" পায়।

====

এই সাদা পাথরগুলো অত্যন্ত শক্ত ও টেকসই হওয়ায় বাংলাদেশের নির্মাণ শিল্পের মূল কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ভবন, সেতু, কালভার্ট, এবং সড়ক নির্মাণে যে কংক্রিট তৈরি করা হয়, তার জন্য এই পাথর অপরিহার্য। সিলেট থেকে এই পাথর সারা দেশে সরবরাহ করা হয়।

ভোলাগঞ্জ ও জাফলং অঞ্চলের হাজার হাজার মানুষের জীবিকা এই পাথর উত্তোলনের ওপর নির্ভরশীল। পাথর সংগ্রহ, ভাঙা, এবং পরিবহনের সাথে বিশাল এক কর্মী বাহিনী জড়িত।

কিন্তু,

অপরিকল্পিতভাবে এবং অতিরিক্ত পাথর উত্তোলনের ফলে নদীর তীর ভাঙন, নদীর গতিপথ পরিবর্তন এবং জলজ বাস্তুতন্ত্রের (aquatic ecosystem) মারাত্মক ক্ষতি হয়। বোমা মেশিনে সাহায্যে নদী থেকে পাথর তোলার কারণে পরিবেশের ওপর চাপ বেড়েছে এবং এই দোহাই দিয়ে শুরু হয় এক নতুন খেলা!

পরিবেশবাদীরা মাঠে নেমে পড়েন! ঠুকে দিলেন রিট!

====

২০১৮ সালে পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোর দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে সিলেটের পাথর কোয়ারিগুলোকে সরকারিভাবে Environmentally Critical Area (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

এর ফলে জাফলং, সাদাপাথরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো থেকে পাথর উত্তোলন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যায়, যা সরকারি আদেশের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় স্থানীয় কোয়ারির শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখোমুখি হন।

২০১৮ সাল থেকে এই নিষেধাজ্ঞা দীর্ঘকাল ধরে বহাল থাকে এবং ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বজায় থাকে, যদিও দেশের অন্যান্য এলাকায় ধীরে ধীরে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা শুরু হয়।

২০২০ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় দেশের সকল পাথর কোয়ারিতে উত্তোলন স্থগিতের নির্দেশ দেয়, যা সিলেটের কোয়ারিতেও প্রযোজ্য থাকে। এই নির্দেশের ফলে পাথর উত্তোলন “পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত” বন্ধ থাকে।

শেষ পর্যন্ত ১৫ জানুয়ারি ২০২৫ সালে পূর্বের আদেশ প্রত্যাহার করা হয়, ফলে সিলেটসহ দেশের সব পাথর ও বালু মহাল থেকে পাথর, বালি ও সাদা মাটি উত্তোলনের উপর আর কোনো বিধিনিষেধ থাকে না।

তবে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশবাদী গোষ্ঠীগুলো এই সিদ্ধান্তে উদ্বেগ প্রকাশ করে।

সামগ্রিকভাবে, ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সালের মাঝামাঝি পর্যন্ত সিলেটের পাথর কোয়ারিতে দীর্ঘকালীন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল, যা স্থানীয় পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছিল।

====

ধরে নেন, এসবই উপরওয়ালার রহমত হিসেবে আমাদেরকে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু, সেই রহমত গ্রহণ না করলে কি হতে পারে?

আপনাদের মনে আছে সিলেটের ভয়াবহ বন্যার কথা?

দীর্ঘ ১১ বছর যে অঞ্চলে বন্যা হয়নি হঠাৎ সে অঞ্চলে বন্যা হয় ২০১৮ তে। তারপর ২০১৯ ও ২০২০, পর পর ৩ বছর সিলেটে বন্যা হয়! আর ২০২২ ও ২০২৪ এ যে বন্যা হয়েছে তা ছিলো ১২০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় ভয়াবহ বন্যা!

এই বন্যার অনেক গুলো কারণ থাকতেই পারে। কিন্তু আমার দৃষ্টি পড়ে অন্য একটি ঘটনায়।

২০১৮ সালে বছরের শুরু থেকেই সিলেটে পাথর উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, আর একই বর্ষা মৌসুমেই বড় বন্যা দেখা দেয়।

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর মাত্র ৪–৬ মাসের মধ্যেই এই বন্যা হওয়ায় প্রভাব থাকলেও তা দ্রুত বোঝা কঠিন ছিল।

পরের বছর ২০১৯ সালে নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকে এবং প্রায় ১২–১৫ মাস পর আবারও বড় বন্যা ঘটে। দীর্ঘ ব্যবধানের কারণে এখানে নদীর পলি জমা, পানির প্রবাহের ধরণ পরিবর্তন ইত্যাদি বিষয় প্রভাব ফেলতে পারে।

২০২০ সালের ফেব্রুয়ারিতে সারা দেশে পাথর উত্তোলন বন্ধের নির্দেশ জারি হয়, আর প্রায় চার মাস পর জুন–জুলাই মাসে বন্যা হয়। এই স্বল্প ব্যবধানে নিষেধাজ্ঞার প্রভাব আলাদা করে নির্ণয় করা কঠিন হয়ে যায়।

অন্যদিকে, ২০২২ সালের রেকর্ড বন্যার সময় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল প্রায় চার বছর ধরে।

এত দীর্ঘ সময় পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকার পরও ভয়াবহ বন্যা হওয়া প্রমাণ করে যে শুধুমাত্র উত্তোলন বন্ধ রাখা বন্যা প্রতিরোধে যথেষ্ট নয়; বরং অতিবৃষ্টি, উজান থেকে নেমে আসা পানি এবং নদীর ধারণক্ষমতা হ্রাসের মতো প্রাকৃতিক ও ভৌগোলিক কারণ এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

একইভাবে, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার সময় নিষেধাজ্ঞা চলছিল প্রায় ছয় বছর ধরে, তবুও বন্যার তীব্রতা কমেনি।

সুতরাং দেখা যায়, স্বল্প ব্যবধানের ক্ষেত্রে (যেমন ২০১৮ ও ২০২০) নিষেধাজ্ঞা ও বন্যা প্রায় একই বর্ষায় মিলে গেছে, আর দীর্ঘ ব্যবধানের ক্ষেত্রেও (যেমন ২০২২ ও ২০২৪) পাথর উত্তোলন বন্ধ থাকলেও বন্যার প্রকোপ কমেনি।

ফলে অনুমান করা যায়, পাথর উত্তোলন বন্ধ রাখা স্থানীয় নদীর কিছু পরিবেশগত ক্ষতি কমাতে পারে, কিন্তু বড় মাপের বন্যা প্রতিরোধে এর ভূমিকা সীমিত, কারণ মূল কারণগুলো প্রাকৃতিক ও বৃহত্তর ভৌগোলিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত।

যেই সময়টিতে আমাদের দেশে পাথর উত্তোলনের উপর নিষেধাজ্ঞা চলে, সে সময়ে সীমান্তের ওপাশে শত শত পাথর উত্তোলন করার কোয়ারি স্থাপন করে, পাহাড় কেটে বিপুল পরিমাণ পাথর সংগ্রহ করে।

আল্লাহ যা কিছু রহমত হিসেবে আমাদেরকে দিয়েছেন তাও আবার যাতে তুলতে না পারে সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা দেয়। কতো বড় হারামি চিন্তা করেন একবার।

বেশি কিছু আর বললাম না, দিল্লীর হয়ে খেলাটা আলু ভালোই খেলেছে এইবার!

আমি মূখ্য-সুখ্য মানুষ। এ ব্যাপারে তক্ক করতে পারিব না। মনে যা চায় তাই লিখলাম। বাকি আপনারা যা ভালো মনে করেন, করেন!

'আমি ভাই কোনো ভাগ-টাগ পাই নাই পাত্থরের'। এই আমি আগেই বলে রাখলুম।

সংশোধনঃ ভোলাগঞ্জের চেয়ে বিছানাকান্দিতে পাথরের পরিমাণ অনেক বেশি।

লেখা : রাশেদ হাসান আকাশ

Address

জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি জাদুঘর, Shahid Shahabuddin Shorok
Dhaka
1207

Opening Hours

Monday 09:00 - 16:30
Tuesday 09:00 - 16:30
Wednesday 09:00 - 16:30
Friday 10:00 - 12:00
14:00 - 18:00
Saturday 09:00 - 16:30
Sunday 09:00 - 16:30

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Natural History Museum, Bangladesh posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category