26/07/2025
মকবুল মিয়া ভাতের প্লেট নিয়ে অপেক্ষায় আছেন কখন তরকারি আসবে। পাশেই তার ছেলের লাশ। লাশে পঁচন ধরেছে। মাছি এসে ভন ভন করছে লাশের উপর! মকবুল মিয়া একবার হুস করে মাছি সরিয়ে আবার মনোযোগ দিলেন ভাতের প্লেটে।
মকবুল মিয়ার স্ত্রী চুলার থেকে তরকারি নিয়ে এসে স্বামীর প্লেটে দিতে দিতে বললেন, দাফনের জায়গা পান নাই?
মকবুল মিয়া বললেন, না! আগের কত লাশই ঠিক মতন মিশে নাই মাটির সাথে! এখন উপায় শুধু মাটি খুইঁড়া পুরান লাশের সাথে চাপা দেওয়ার। আবুল ভাইয়ের মেয়ের লাশ নিয়াও অপেক্ষায় আছে। কবরের জায়গা নাই!
মকবুল মিয়ার স্ত্রী জিজ্ঞেস করলেন, কিভাবে মরলো? কোনজন?
মকবুল মিয়া বললেন, মেঝোজন। রেইপ করছে। পরে মাইরা ফেলছে। বড়ো মেয়েটারওতো একই কেস ছিলো।
মকবুল মিয়ার স্ত্রী বললেন, ওহ! তো দেখেন ভাত খায়া। হাসানের লাশেতো পঁচন ধরছে!
মকবুল মিয়া ভাত খেতে খেতে বললেন, দেখি কি করা যায়।
মকবুল মিয়া এলাকার কয়েকজনকে নিয়ে ছেলেকে মাটি দেওয়ার জায়গা খুঁজছে। ছেলে গতকাল সন্ধ্যা বের হয়েছিলো কোচিংয়ে যেতে। ছিনতাইকারী ধরে সব নিতে গেলে বাধা দিলো ছেলেটা, ওমনেই বুক বরাবর দাঁয়ের কোঁপ বসিয়ে দেয় ছিনতাইকারীদের একজন।
এলাকার আবুল সাহেবও মেয়ের লাশ নিয়ে যোগ দিলেন মকবুল মিয়ার সাথে। মকবুল মিয়া বললেন, টিভিতে বারবার খবর হয় ছিনতাইকারী ধরলে যা আছে দিয়ে দিতে। তবুও ছেলেটা কথা শুনলো না! আবুল সাহেবও বললেন, তাইতো! কত করে মেয়েগুলাকে শিখাইছি, মাগো, রেইপ করতে আইলে চুপ থাকবি! বাধা দিবি না! এখন ভালো হইলো? ওরা মরে যন্ত্রণা আমাগো! এখন জায়গায় জায়গায় ঘুরো লাশ দাফন করতে! মাটিতে কোঁপ দিলে কারো না কারো লাশে লাগে! একসাথে মাটি চাপা দেওয়া ছাড়া উপায় নাই মকবুল ভাই! লাশের জায়গা না মিললে কি করার আছে? চলেন একসাথে কবর দিয়া দেই!
মকবুল মিয়া, আবুল সাহেব তাদের সন্তানদের কবর দিয়ে বাড়ি ফেরেন। গোসল করে ঘুম দেন! রাতে মাইকের শব্দে মকবুল মিয়ার ঘুম ভাঙ্গে, এলাকার ইউসুফ মিয়া মারা গেছেন! কবরের জায়গা খোঁজা হচ্ছে দাফন করতে! কারো খোঁজে জায়গা থাকলে জানাতে!
মকবুল মিয়ার স্ত্রী এসে বললেন, ওই পোলাপান চাঁদা চাইতে গেছিলো নাকি। দেয় নাই। এখন কবর দিবো কই কে জানে!
মকবুল মিয়া ওহ বলে আবার পাশ ফিরে ঘুমানোর চেষ্টা করেন। পাশেই মকবুল মিয়ার স্ত্রী বললেন, সরকার থেকে কিছু করা উচিত। লাশ দাফন করার জায়গা নিয়ে এত কষ্ট করা লাগে! এত এত লাশ, জায়গা পাইবোই কই?
মকবুল মিয়া বললেন, সরকার কি করবো? সরকারতো রোজ টিভিতে বলেই দেয়, কাউকে কোনোকিছু করতে বাধা দিতে না! বাধা দিয়া মরলে সরকারের দোষ? সরকারের আর কোনো কাজ নাই? কত বড়ো বড়ো প্রজেক্ট নিয়া সরকার ব্যস্ত। তবে ধৈর্য ধরো, শুনছি সরকার বিদেশ থেকে যন্ত্র আনবে। মাটি খোঁড়ার যন্ত্র! বিশাল গর্ত হবে! এক গর্তে শখানেক লাশতো জায়গা হবেই! লাশ নিয়া আর চিন্তা নাই। ঘুমাও। নিশ্চিন্তে ঘুম দাও। সরকার আছে!
মকবুল মিয়া ও তাদের এলাকাবাসী লাশের চিন্তা বাদ দিয়ে নিশ্চিন্ত মনে ঘুম দিলেও ওইদিকে অষ্ট্রেলিয়ার সরকার প্রধান ও মন্ত্রীসভার কারো চোখে ঘুম নাই! তাদের দেশের রাস্তায় ছোটো এক গর্তে পড়ে এক কুকুরের পা ভেঙ্গেছে! প্রধানমন্ত্রী জাতির কাছে ক্ষমা চেয়েছেন। সড়ক ও পরিবহন মন্ত্রী রাস্তায় গর্ত হওয়ায় পদত্যাগ করেছেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী রোজ কুকুরের চিকিৎসার খোঁজ নিচ্ছেন! জনগণ কুকুরের পা ভাঙার জবাব চাচ্ছে!
Fazlay Khoda Raihan