ক্টিভিস্ট কারা, এক্টিভিজম কি?
এক্টিভিজম হলো সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তন আনার জন্য স্বপ্রণোদিত কার্যক্রম। তবে এক্টিভিজমের বিষয়টি অত্যন্ত ব্যাপক এবং তাৎপর্যপূর্ণ। এক্টিভিস্টরা একইসঙ্গে জ্ঞানী ও কর্মী, এমনকি সংগঠকও; আবার এক্টিভিজম মানে প্রতিরোধ ও প্রতিবাদ। এই প্রতিরোধের ক্ষেত্রগুলো হতে পারে দূনীতি, এগ্রেসিভ কর্পোরেট কালচার, বিজ্ঞাপননির্ভর ভোগবাদিতা, মৌলবাদী জঙ্গিপনা, ঢালাও বেসরকারীকরণ, উন্নয়নের ন
ামে পরিবেশ ধ্বংস, পুরুষতান্ত্রিকতা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিশু সুরক্ষা কিংবা যে-কোন পীড়ন ও শোষণ।
এক্টিভিজমের মাধ্যম বড়ই বিচিত্র- গৃহকোণে বসে লেখালেখি বা ব্লগিং, আলোচনা, বিশেষ প্রশিক্ষণ থেকে শুরু করে রাজপথে প্রতিবাদ পর্যন্ত। সচেতন গণতান্ত্রিক চেতনা স¤পন্ন যে-কোন মানুষ বিশ্বব্যাপী নানা মাত্রার এক্টিভিজমের সঙ্গে যুক্ত। এককথায় এক্টিভিজমের লক্ষ্য হলো মানবমুক্তি।
বাংলাদেশ এক্টিভিস্ট ফোরাম কেন?
এক্টিভিস্ট ফোরামের মাধ্যমে মূলত আমরা একটা নেটওয়ার্ক তৈরী করে চলেছি-যাতে দেশের প্রতিভাবান মানুষেরা পরষ্পরের সহযোহিতায় বিশ্বমানের মেধা সম্পন্ন মানুষ হিসাবে বেড়ে উঠে, পাশাপাশি অন্যকে তথা সমাজকে আলোকিত করে এবং এগিয়ে রাখে।
ফোরামের আউটফুট:- ফোরাম থেকে নিয়মিত প্রকাশিত হয় ই-দুর(গুগুল পেপারব্যাক), সাহিত্য সাময়িকী, বই, জার্নাল, ই-বুক,সংকলন। ডিজিট্যাল ফরমেটে অডিও-ভিডিও, ফিল্ম, ডকুড্রামা, ডকুমেন্টরী, আর্ট ফেন্টিবল, ফটোগ্রাফী, সঙ্গিত, নৃত্যসহ সংস্কৃতি কলার নানা আয়োজন থাকে।
এক্টিভিস্টরা কিভাবে সংযুক্ত থাকবেন:-সদস্য হবার পর এক্টিভিস্টরা তাদের মেইলিং ঠিকানায় প্রতিনিয়তই বই-ম্যাগাজিন-জার্নাল ফ্রি পাবেন (প্যাকেজিং এবং ডাকখরচ এক্টিভিস্টদের)। এসব প্রকাশনায় ফোরাম আয়োজিত কার্যক্রম এবং অনুষ্ঠানাদির তথ্য থাকে। সদস্যরা এসবে অংশগ্রহন করতে পারেন।
এক্টিভিস্টদের লেখালেখি:এক্টিভিস্টরা তাদের যে-কোন তথ্যবহুল লেখা ৫০ থেকে৩০০শব্দের মধ্যে লিখে মোবাইল নাম্বারসহ ইমেল করুন-
অথবা হেলপ লাইন এক্টিভিস্ট আর্টিক্যলস্-এ সরাসরি লিখুন। www.helplinebd.org
Bangla Blog>Category>Activist Articles
এক্টিভিস্টরা তাদের লেখা বই আকারে ছাপতে ও বাজারজাত করতে আর্থিকসহ সার্বিক সহযোগিতা করা হয়।
প্রশিক্ষণ: এক্টিভিস্টদের আর্থিক ক্ষমতায়ন করার লক্ষ্যে ফোরাম বিভিন্ন ফ্রি প্রশিক্ষণের আয়োজন করে থাকে প্রতিমাসে সারাদেশের বিভিন্ন লোকেশনে। কোথায় কোন প্রশিক্ষণ তা জানতে এবং নিবন্ধন করতে উপরে প্রোগ্রাম রেজিষ্ট্রেশন লিংকে ক্লিক করুন।
কিভাবে সদস্য হবেন:- প্রথমে সাংগঠনিক সংবিধান বুঝে পড়তে হবে, তারপর উপরে বিকাম এ মেম্বার লেখায় ক্লিক করে রেজিষ্ট্রেশন করুন। আপনার রেজিষ্ট্রেশন ফোরাম কর্তৃক গৃহিত হলে মোবাইল নাম্বারে একটা ম্যাসেজ আসবে এবং আপনার মেইলিং ঠিকানায় রেজি ডাকে বা কোরিয়ার যোগে বুলেটিন, ফ্রি গিফ্ট,পরিচয় পত্র এবং একটা ডিসকাউন্ট কার্ড পাবেন ।
এক্টিভিস্ট ফোরামের সংক্ষিপ্ত সাংগঠনিক সংবিধান
মূলনীতি: সবার উপরে মানুষ সত্য তার উপরে নাই।
মূলনীতির বিশ্লেষণ: ‘ধর্ম-বর্ণ-জাত-লিঙ্গ-দল-মত সবকিছুর উর্দ্ধে মানবতা‘-এই মূল্যবোধে বিশ্বাসীরাই শুধু এ ফোরামে সদস্য হবেন। সংকীর্ণমনা, সাম্প্রদায়িকতা, চরমপন্থার বিপরীতে যারা উদারমনা, যুক্তির আলোকে বিশ্লেষণকারী ও মুক্তবুদ্ধি চর্চাকারীরা মূলত এ-ফোরামের সদস্য। আরো পরিষ্কারভাবে বলতে গেলে-সাধারণ পেশাজীবি গতানুগতিক কোন ব্যক্তি সদস্য উপযোগী নয়, শুধুমাত্র যারা প্রতিভাবান, কর্মত?পর, বিজ্ঞানমনস্ক ,জ্ঞান প্রত্যাশী এবং নিজের ও পারিপার্শি¦ক আবস্থার উন্নতির জন্য নিবেদিত, তারাই এক্টিভিস্ট ফোরামের সদস্য হবার যোগ্য।
চাঁদা: এ ফোরামে কোন মাসিক বা এককালিন চাঁদা নেই। প্রকাশনা, প্রোডাক্ট বিক্রি ও অনুদানই এর আয়ের প্রধান উত্্স।
সদস্য ক্যাডার: সদস্য তিন ধাপে বিভিক্ত। ১। সাধারণ সদস্য ২। অভিভাবক পরিষদ ৩। কার্যকারী পরিষদ
সদস্য ক্যাডার নির্বাচন প্রকৃয়া: প্রতিবছর ১৩ এবং ১৪ই ফেব্রয়ারী বার্ষিক সাধারণ সভায় কার্যকারী পরিষদের সুপারিশের ভিত্তিতে সাধারণ সদস্য থেকে অভিভাবক সদস্য নেয়া হয়। এই অভিভাবক সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে প্রথম দশজন কার্যকারী পরিষদ পরিচালনা করেন। সবচেয়ে বেশী ভোট প্রাপ্ত চেয়ারম্যান, ২য় সচীব, ৩য় প্রচার ও সাংগঠনিক সম্পাদক, ৪র্থ কোষাধক্ষ ও প্রকাশনা, পঞ্চম যোগাযোগ ও সমন্ব^য়কারী এবং বাকী পাঁচজন বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণে সহায়তাকারী। উল্লেখ্য কার্যকরী পরিষদের কোন একই পদে পরপর দুইবার বহাল থাকতে পারেন না।
আয়-ব্যয়: বার্ষিক সাধারণ সভায় আয় ব্যয় এনুয়্যেল রিপোর্ট প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক।
সদস্য হবার পর আপনার দুটি করণীয়:-
(এক)প্রতিদিনের ডাইরী লেখা: অনলাইনে ব্লগ/সোসাল নেটওয়ার্ক, ডিজিট্যাল ফরম্যাটে-কম্পিউটার/ট্যাব কিংবা এনালগ ডাইরী/নোট খাতায় দিনলিপি লিখতে হবে। এ দিনলিপিতে ৩টি বিষয় থাকবে। ১। মস্তিষ্ক চর্চা: পেপার,জার্নাল, বই কিংবা অনলাইন তথ্যভান্ডার থেকে আপনার সংগৃহিত জ্ঞান-তথ্যের সংক্ষিপ্ত বিবরণ। ২। কার্য আচরণ: আজ সারাদিনে কতজনের সাথে আপনি ইতিবাচক আচরণ এবং কয়টি কল্যাণকর কাজ করতে পেরেছেন আর নেতিবাচক কাজ এবং বাজে আচরণ কন্টোল করতে পারেননি কতজন থেকে। কি-বললে বা কি-করলে সবচেয়ে ভাল হত, এর ফলে আপনি কতটা লাভবান হতেন। ৩। পরিকল্পনা: আপনার জীবনের লক্ষ্যে পোঁছাতে নতুন কোন তথ্য, জ্ঞান, প্রশিক্ষণ এবং পরিকল্পনা লিখুন। পরিকল্পনা মত লক্ষ্য পথে অগ্রসর হতে আজকে কি পদক্ষেপ আপনার ছিল। পরিকল্পনায় কি পরিবর্তন বা যোগ-বিয়োগ করলে আরো গতিশীল হয়।
(দুই) কার্যক্রম: আপনি যা কিছু করেন, তার কার্যকর আউটফুট না থাকলে সব বৃথা। স্মার্ট আউটফুট ও গতিশীল জীবনের জন্য টাইম ম্যানেজমেন্ট অত্যন্ত জরুরী। তাই প্রতিদিনের পুরো সময়কে ভাগ করে নিবেন। ঘুম ভাঙবার পর থেকে ঘুমুতে যাবার আগ পর্যন্ত সারা দিনের কোন সময় কি কি কাজ করবেন। দিনের অবসরে বিশ্লেষন করবেন, কতটা সময় আপনার জীবন থেকে বাজেভাবে মাইনাস হয়েছে। তারপর কার্য তালিকায় আত্মউন্নয়নের পাশাপাশি সামাজিক ও পারিপাশ্বিক উন্নয়নে পদক্ষেপ নিন।