14/01/2025
🔴তেলো ভেলোর মাঠে পূজিত ডাকাত কালী মন্দির 🔴
👉 এক সময় সারদা মা পায়ে হেঁটে কামারপুকুর থেকে দক্ষিণেশ্বরে যেতেন। সঙ্গে আরও কয়েক জন মহিলা থাকতেন। হাঁটা পথে ক্লান্তি। তবু সন্ধের আগে তেলো ভেলোর মাঠ পেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা সকলের। একদিন সঙ্গীরা এগিয়ে গেলেও মা সারদা হাঁটতে পারছিলেন না। ফলে পিছিয়ে পড়েন। ডাকাতের ভয়ে সঙ্গীরা তাঁকে ফেলে এগিয়ে যান। মাও বলেন, তারকেশ্বরে গিয়ে ওঠো সেখানেই তোমাদের সঙ্গে দেখা হবে। কামারপুকুর থেকে আরামবাগ আট মাইলের পথ ছিল জলা-জঙ্গল। ওই মাঠটির নাম এখনও তেলোভেলোর মাঠ। এই জায়গাটি ছিল ডাকাতদের ঘাঁটি। সেদিন সারদা মায়ের হাঁটতে কষ্ট হচ্ছে, শরীরে ব্যথা। এমন সময় হাড় হিম করা চিৎকার। দৈত্যের মতো কালো চেহারার এক প্রকাণ্ড মানুষ লাঠি ঠুকে এসে মায়ের মুখোমুখি দাঁড়ায়। তার মাথায় ঝাঁকড়া চুলের গোছা, হাতে পায়ে লোহার বালা, কপালে রক্ততিলক। আচমকা এমন রূপ দর্শনে মা চমকে উঠেন। বুঝতে পারেন, তিনি ডাকাতদের কবলে পড়েছেন। কেউ বলেন সেই ডাকাত সর্দারের নাম ছিল সাগর সাঁতরা। অনেকে তাঁকে ভীম ডাকাত বলেন। কর্কশ গলায় মাকে প্রশ্ন, কে তুই? কোথায় চলেছিস? মা বললেন, আমি তোমার মেয়ে গো বাবা, সারদা। দক্ষিণেশ্বর যাচ্ছি তোমার জামাইয়ের কাছে। বিচলিত না হওয়া গলায়, মায়ের এমন উত্তর শুনে মন গলে গেল ডাকাতের। সেই সময় মা সারদা জগতজননী ও রামকৃষ্ণকে স্মরণ করেন। হঠাৎ এক অলৌকিক আলোতে ভরে যায় তেলোভেলোর মাঠ। মা অনুভব করলেন, যেন জগতজননী এসে দাঁড়িয়েছেন পাশে। তখন ডাকাত সর্দার ভীম এসে মায়ের হাত দুটো ধরেন। মা বলেন, সঙ্গীরা সবাই এগিয়ে গিয়েছে। আমি তো হাঁটতে পারছি না। ভাগ্যে তোমরা এলে। না হলে এই মানুষশূন্য পথে ভয় লাগছিল। ততক্ষণে এগিয়ে এসেছেন ডাকাতের স্ত্রীও। সারদা মাকে একরকম জোর করেই নিয়ে যান বাড়িতে। মাকে খাইয়ে পরম আদরে বিছানা পেতে দেন মাটির দাওয়াতে। পরদিন ভোর হতেই ভীম নিজে মাকে পৌঁছে দেন। মেয়ে রূপে দেখা এই সারদা মাকে প্রতিষ্ঠা করেন ডাকাত সর্দার ভীম। এখনও মেয়ে রূপে তাঁর পুজো হয়। মায়ের নিত্য ভোগের সঙ্গে দেওয়া হয়ে থাকে মুড়ি, মুড়কি, চালভাজা। কারণ সে রাতে এই খাবারগুলোই মাকে খেতে দিয়েছিলেন।