TARIT's page

TARIT's page history literature science

22/04/2026

# গল্পস্বল্প

|| পৃথিবীর সংক্ষিপ্ততম গল্পগুলো বা flash fiction||
-----------------------------------------------

আর্নেস্ট হেমিংওয়ের (Ernest Hemingway) ছয় শব্দের গল্প :

​বলা হয়, এক বন্ধু বাজি ধরেছিলেন যে হেমিংওয়ে মাত্র ছয়টি শব্দে কোনো গল্প লিখতে পারবেন না। হেমিংওয়ে একটা টিস্যু পেপারে এই লাইনটি লিখে বাজি জিতে নিয়েছিলেন:
​"For sale: Baby shoes, never worn."
(বিক্রয়ের জন্য: শিশুর জুতো, কখনো পরা হয়নি।)

​এই ছয়টি শব্দের আড়ালে যে কী গভীর হাহাকার, এক সন্তানের মৃত্যু আর একজোড়া বাবা-মায়ের ভাঙা স্বপ্ন লুকিয়ে আছে, তা পড়ার সাথে সাথে বুকে এসে লাগে।

​২. ফ্রেডরিক ব্রাউন-এর (Fredric Brown) রহস্য গল্প
​বিজ্ঞান কল্পকাহিনীর লেখক ফ্রেডরিক ব্রাউন ১৯৪৮ সালে একটি অতি-সংক্ষিপ্ত গল্প লিখেছিলেন, যা পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম হরর বা সায়েন্স ফিকশন হিসেবে পরিচিত:
​"The last man on Earth sat alone in a room. There was a knock on the door..."
(পৃথিবীর শেষ মানুষটি ঘরের ভেতর একা বসে ছিলেন। হঠাৎ দরজায় কড়া নাড়ার শব্দ হলো...)

​পৃথিবীতে যদি একজনই মানুষ বেঁচে থাকে, তবে দরজায় কে কড়া নাড়ছে? এই একটি বাক্যেই তিনি যে রহস্য আর ভয় তৈরি করেছেন, তা কয়েকশো পাতার উপন্যাসেও সম্ভব নয়।

৩.অগাস্টো মন্টেরোসো (Augusto Monterroso)-র 'ডাইনোসর'
​এটাকে দীর্ঘকাল ধরে বিশ্বের সংক্ষিপ্ততম গল্প হিসেবে মানা হতো (স্প্যানিশ ভাষায়)।

এই গল্পটি এক লাইনের এক অদ্ভুত জাদুকরী বাস্তবতা:
​"When he awoke, the dinosaur was still there."
(যখন সে ঘুম থেকে উঠল, ডাইনোসরটি তখনও সেখানেই ছিল।)

​এই একটা লাইনে কী নেই? এক আদিম ভয়, অবাস্তব কল্পনা আর বাস্তবতার মিশেল। ডাইনোসরটি কি সত্যি? নাকি সেটা কোনো দুঃস্বপ্ন যা কাটছে না?

​৪. . মার্গারেট অ্যাটউড (Margaret Atwood)-এর 'ডেথ বাই ল্যান্ডস্কেপ' স্টাইল ছোট গল্প।

​অ্যাটউড বা এই ঘরানার লেখকরা অনেক সময় এমন ছোট গল্প লেখেন যা মানুষের সম্পর্কের জটিলতাকে এক নিমিষে ফুটিয়ে তোলে।

যেমন এই ৩ শব্দের মাইক্রো-ফিকশনটি দেখা যাক:
​"Longing. Belonging. Gone."
(তীব্র আকাঙ্ক্ষা। আপন হওয়া। হারিয়ে যাওয়া।)

​জীবনের পুরো একটা সম্পর্কের সফরনামা এই তিনটে শব্দেই বন্দি। শুরুতে চাওয়া, তারপর পাওয়া, আর শেষে বিচ্ছেদ।

​৫. একটা বাড়তি সারপ্রাইজ (বনি জো ইটের-এর গল্প।

আধুনিক যান্ত্রিক প্রেক্ষাপট।

​"He hit 'save'. The screen went black. He wept."
(সে 'সেভ' বাটনে চাপ দিল। স্ক্রিনটা কালো হয়ে গেল। সে কান্নায় ভেঙে পড়ল।)

​একজন লেখকের কাছে এর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি আর কী হতে পারে? সারা রাতের হাড়ভাঙা খাটুনি এক নিমেষে ভস্মীভূত হওয়া।

বাংলা সাহিত্যে এ ধরনের flash fiction এর উদাহরণ তেমন লক্ষ্য করা যায় না।
তবে এ প্রসঙ্গে বনফুলের লেখা ছোট্ট গল্প " নিমগাছ" এর কথা অনেকের মনে পড়বে।‌ বনফুল যাকে বলতেন পোস্ট কার্ড গল্প।
দশ পনেরো লাইনের গল্প।
নিমগাছ সবাই ব্যবহার করে তাদের ইচ্ছা মতো যার যেভাবে খুশী। কেউ ডাল কেউ ছাল কেউ পাতা । ক্ষতবিক্ষত নিমগাছ। তার গোড়ায় সব ছাই আবর্জনা ফেলে যায়। এক কবি আসে, তার ছাল বাকল পাতার দরকার নেই, সে মুগ্ধ চোখে নিমগাছের সৌন্দর্য দেখে। নিমগাছের মনে হয় তার সাথে চলে যায় কিন্তু ততদিনে নিমগাছের শেকড় মাটির তলায় গভীরে অনেক ছড়িয়েছে।
বনফুল শেষ লাইনে লিখছেন, ওই বাড়ির গৃহকর্ম নিপুনা লক্ষী ব‌উটির অবস্থাও ওই নিমগাছের মতো।

01/03/2026

#পুরানকথা

#জাতিস্মরওহেমেন্দ্রনাথ (২)

হেমেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় ছিলেন ইনকারনেশন রিসার্চার। যে সময় তিনি চর্চা করতেন তখন অর্থাৎ '60s তখন parapsychology চর্চার রমরমা।
তিনি সেই সময় ৬৮ বার বিশ্ব ভ্রমণ করেছিলেন নানা কেস স্টাডি করার জন্য বিশ্বজুড়ে। ২৭ বছর ধরে তখন এই নিয়ে গবেষণা করছেন। পৃথিবী জোড়া নামডাক তার তখন। এমনকি জন এফ কেনেডির ভাই ববি কেনেডি আততায়ীর হাতে নিহত হবার পর তাকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল তদন্তে সহযোগিতা করার জন্য কারন আততায়ী বলেছিল তাকে কিছু ভর করেছিল।
তার এবং অন্যান্যদের উদ্যোগে তখন উত্তর ভারতের নানা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্যারাসাইকোলোজি বিভাগ খোলা হয়েছিল।
তিনি বিদেশে থাকার সময়ই রাজস্থান বিশ্ববিদ্যালয়ের এই বিভাগ হঠাৎ হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয় নতুন কংগ্রেস সরকার আসার পরই। তার স্ত্রীর দরবার কাজে আসেনি।
কলকাতাতেও তাঁর উদ্যোগে West Bengal parapsychological society গঠন হয়ছিল। লালমোহন ভট্টাচার্য রোডে, বিমল চট্টোপাধ্যায়, সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের কাকার, যিনি সোনার কেল্লার নকল মুকুলের দাদু চরিত্রে ছিলেন, তার বাড়িতে।
এই সোসাইটির মেম্বার ছিলেন উত্তমকুমার, সত্যজিৎ, তখনকার হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি ইত্যাদি।
বিমলবাবুর সূত্রেই হেমেন ও গবেষণা সম্পর্কে সত্যজিৎ জানতে পারেন।
জাতিস্মর নিয়ে তখন হেমেনের প্রথম ব‌ই বেড়িয়েছে। প্রভু বলে জাতিস্মর একটি ছেলেকে নিয়ে। ১৯১৯ সালের কথা। সম্ভবত ভরতপুর। সে যজমানি করত। ভ‌ইবোন আত্মীয় সবার নাম বলত। পূর্ব জন্মে থাকত ফোর্টের কাছে এক গ্ৰামে।‌ তখন ওখনাকার রাজা এই নিয়ে একটা কমিটি করে অনুসন্ধানের জন্য। নিজেও প্রভুকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এই রিপোর্ট নিয়েই ১৯৬৫ সালে হেমেন্দ্রনাথ স্টাডি করে এবং তদন্ত করে। করতে গিয়ে যার কাছে প্রভুর পূর্ব জন্মের খুঁটিনাটি পায় তার নাম শিব দুবে হাজরা।
এই হেমেনে সোনার কেল্লার হেমাঙ্গ আর হাজরা সম্ভবত ধরা হয় দুবের ওই হাজরা পদবী থেকে। লালমোহন ওই লালমোহন ভট্টাচার্য রোড থেকে।
প্রভুই মুকুল। প্রভুও তিন বছর বয়সে মাঝরাতে উঠে পড়ত। অন্যজন্মের কথা বলত। প্রভুর কথা সঠিক প্রমাণিত হয়। এমনকি আগের জন্মে কেল্লার কাছেই ৫ টাকা মাটিতে পুঁতে রেখেছিল তাও বার হয়।
জাতিস্মর,আত্মা, পূনর্জন্ম ইত্যাদি কথা হেমেন ব্যবহার করতে চাইতেন না। এর মধ্যে তার ফলে ধার্মিকতা ইত্যাদি এসে যেতে পারে। তাতে মূল জিনিস, ইস্যু অন্যদিকে ঘুরে যাবে। তিনি মনে করতেন memory previous learning এর অভিজ্ঞতা ছাড়া হয়না। এবং memory অবস্থান brain এ, brain function। কিন্তু জাতিশ্মরের ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয়। তাহলে কি ভাবে একজনের চেতনা, স্মৃতি, memory অন্যজনের মস্তিষ্কে প্রবেশ করছে। এই উপায় অজানা। তিনি একে বলেছেন extra cerebral memory। জন্মান্তরবাদ বলে তার একটা ব‌ই আছে। এখানে , কলকাতায়, সোসাইটি প্রতিষ্ঠার সময় কাগজে অনেক লেখালেখি হয়েছিল।
১৯১৯ সালে প্রভুর জন্ম।

#তড়িৎরায়

01/03/2026

#পুরানকথা

জাতিস্মর ও হেমেন্দ্র নাথ (১)

হেমেন্দ্রনাথ বন্দোপাধ্যায় এর জাতিস্মর নিয়ে গবেষণার জন্য প্রায়ই বিদেশ ভ্রমন করতেন, আমন্ত্রণে বা কেস স্টাডির জন্য। একবার বিদেশে একটা কেস স্টাডি করতে গিয়ে যা অভিজ্ঞতা হয় তা এরকম।
ঘটনাটা সম্ভবত আমেরিকার ওকলাহোমায়, যেখানে কেই জাতিশ্মর প্রথায় বা ঘটনায় শুধু বিশ্বাস করেনা তা নয় এধরনের কথা বলা তাদের কাছে অত্যন্ত গর্হিত কাজ।
যাই হোক কেসের খবর পেয়ে গেলেন তিনি।
জাতিস্মর ছেলেটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানলেন যে সে দূরে, অন্য এক শহরে কলেজে পড়ত। দুচাকা করে ডেটিং করতে যাচ্ছিল। রাস্তায় accident হয় একটা গাড়ির সাথে তাতে সে মারা যায়।
উনি ছেলেটিকে সেই জায়গায় নিয়ে গেলেন। সেই কলেজের একটি মেয়েকে জোগাড় করলেন যে তার সহপাঠী ছিল। এবার একজন সাক্ষী জোগাড় করলেন যে accident প্রত্যক্ষ করেছিল।
এবার জাতিস্মর ছেলেটিকে নিয়ে আসা হল যে এসবের কিছুই জানতনা।
ছেলেটি মেয়েটিকে দেখে চিনতে পারল। তার সম্পর্কে অনেক কিছু বলল যা মিলে গেল।
এবার ছেলেটিকে accident স্পষ্ট দেখাতে বলা হল ছেলেটি দেখাল রাস্তায় হয়েছে। ওই সাক্ষী বলল যে স্পষ্ট ঠিক আছে।
তারপর ঘটনা যখন বিবরণ দিতে বলা হল, জাতিস্মর দেখাল পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে যে ঘটনাটা কি ভাবে হল। এবং শেষে মাটিতে একটা নির্দিষ্ট জায়গায় গড়াগড়ি খেতে লাগল।
সাক্ষী অবাক। ঠিক যা দেখাল, ঠিক সেরকম ভাবেই ঘটনা ক্রম ঘটেছিল।
এরপর আর‌ও নিশ্চিত হতে এবং ফেক রিসার্চ বা বদনাম যাতে না আসে তার জন্য মেয়েটিকে বলল যে ১৫ টি ছবি জোগাড় করতে যার মধ্যে ৫ টি হবে তার পূর্বতন সহপাঠীদের এবং ১০ টি random অন্য কোনো লোকের যারা বর্তমানে এক‌ই বয়সের।
মেয়েটি জোগাড় করল। আর‌ও পদ্ধতি নিখুঁত করার জন্য একটা সিলড্ কাভারে ছবিগুলি রাখা হল।
ছেলেটি এসবের কিছুই জানেনা।
ছেলেটিকে এবার একদিন ডাকা হল। একটি ঘরে একটি টেবিলের সামনে বসানো হল। ঘরে আর‌ও অনেকে উপস্থিত এবং মেয়েটি।
হাতে sealed cover দেওয়া হল। খুলতে বলা হল। খোলা হল। বলা হল কাউকে চেনে কীনা?
ছেলেটি ওই ৫ টি পূর্বতন সহপাঠীদের মধ্যে ২ জনকে শনাক্ত করল। অর্থাৎ ১০ অপরিচিত কে বাদ তো দিল‌ই উপরন্তু ৫ জন সহপাঠী, যাদের বয়েসের কারনে এখন অনেকটাই পরিবর্তিত চেহারা, এমনি স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে অনেক সময় সমকালীন বন্ধুরাই চিনতে পারেনা বয়সের দরুন পরিবর্তিত চেহারার কারনে অনেক বছর পর দেখা হলে, সেখানে সে ওই ৫ জনের মধ্যে দুজনকে শনাক্ত করল।
মেয়েটি ও অন্যান্যরা সাক্ষী র‌ইল এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হিসাবে এবং সত্যতার সাক্ষী হিসাবে।
হেমেন্দ্র নাথের কথা অনুযায়ী, এ এক বড় বিরল ঘটনা। Probability র হিসাবেও।
এই হেমেন্দ্রনাথ ই সত্যজিতের কলমে সোনার কেল্লার ডঃ হেমাঙ্গ হাজরা, প্যারাসাইকোলোজিস্ট।

#তড়িৎরায়

 # পুরান কথা  ‌‌               #নীলচাষীনীলচাষ                  দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকে ( ১৮৬০ সালে রচিত) নীলচাষী...
28/02/2026

# পুরান কথা
‌‌
#নীলচাষীনীলচাষ


দীনবন্ধু মিত্রের নীলদর্পণ নাটকে ( ১৮৬০ সালে রচিত) নীলচাষীদের ওপর ইংরেজ নীলকর সাহেবদের অত্যাচার দেখে নাকি বিদ্যাসাগর মহাশয় দর্শকআশন থেকে অভিনেতার ওপর জুতো ছুঁড়ে মেরেছিলেন।
কিন্তু কি এই নীল গাছ কি তার বৈশিষ্ট্য কেন তার চাহিদা কেন‌ই বা অত্যাচার আর কি তার চাষ পদ্ধতি ছিল?
ওপরে নীল গাছেথ ছবি। নীল গাছের পাতা অনেকটা তেঁতুল পাতা বা লজ্জাবতী লতার মত হয়। ঝোপঝাড়ে এখন পাওয়া যায়। কিন্তু সাধারনত একে মানুষ চেনেনা বলে রহস্য ময় থেকে যায়।
এই গাছের অনেক প্রজাতি। কিন্তু নীল চাষ হতো এখানে বাংলায় এক বিশেষ প্রজাতির।
প্রধানত বীরভূম নদীয়া পুরুলিয়া মুর্শিদাবাদ এবং বাংলাদেশের কিছু জেলায় এখন‌ও নীল গাছ খুঁজলেই ঝোঁপে ঝাড়ে পাওয়া যায়। দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ফলে আজ‌ও ইংরেজদের ফেলে যাওয়া নীল গাছ হারিয়ে যায়নি।
১৭৬৫ সাল। সবে ১৭৫৭ সালের পলাশীর যুদ্ধ শেষ হ‌ওয়ার পর তখন ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রুল জাঁকিয়ে বসেছে বাংলায়। ওদিকে ইংল্যান্ড ও কিছু দেশে লাভজনক নীল রং এর চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় ইষ্ট ইন্ডিয়া কোম্পানী বাংলাকে বেছে নিল নীল চাষের জায়গা হিসাবে কারণ নীল চাষের পক্ষে উপযুক্ত উর্বর জমি।
বাংলার বহু জেলা জুড়ে শুরু হল চাষ এবং বসল নীলকুঠি, নীলকর সাহেবদের তদারকির কুঠিবাড়ি।
ধান পাট চাষ ছেড়ে কৃষকেরা এই চাষে রাজী না থাকলেও বাধ্য করা হতো এই চাষ করতে। কারন বিদেশে চাহিদা ও প্রচুর লাভ নীলকর সাহেবদের।
যদি চাষি চাষ না করতে রাজি না হত তবে চলত শারীরিক ও পারিবারিক অত্যাচার। মামলা ও জরিমানা। শোনা যায় অনিচ্ছুক চাষীদের মাথায় মাটি বসিয়ে সেখানে গাছ লাগানো হতো শাস্তি হিসেবে।
কিন্তু ধীরে ধীরে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়ছিল চাষীদের মধ্যে।
বাংলাদেশের খুলনা ডিভিশনের মেহেরপুর জেলায় বিশ্বনাথ বিশ্বাস প্রথম এই দিকে দিকে অসন্তোষের নেতৃত্ব দেন ১৮০১ সালে। তিনি নীলকুঠি ও ধনী ইংরেজদের লুঠ করতেন ও সেই সম্পত্তি বিলিয়ে দিতেন গরীব বঞ্চিত চাষীদের মধ্যে।‌১৮০৮ সালে তিনি ধরা পড়েন ইংরেজদের হাতে এবং তাঁর ফাঁসি হয়।
১৮৩৩ সালে নতুন এক আইন হয় ও নীলকর নীলকুঠির সাহেবদের অত্যাচার বাড়তে থাকে।
এক একর মত জমিতে ৮ কেজি নীল বীজ ছড়িয়ে ৩০ দিন পর নীলগাছ হাঁটু সমান হয়। ৯০ দিন পর মানুষ সমান বড় হলে তা কেটে ফেলা হয় নীল তৈরির জন্য।
কিন্তু নীল চাষে অসুবিধা কোথায়? কেন অসন্তোষ?
এক বিঘা জমিতে চাষ করে দুই সের ( দুই কেজির থেকে কিছু কম= ১৮৬৬ গ্ৰাম) নীল তৈরী হত। তার বাজারে মূল্য ১০ টাকা, চাষ খরচ ৪ টাকা, কিন্তু চাষীরা পেত ২.৫০ টাকা।
কোথাও বলা হয় বাজার মূল্যের ২.৫% দাম পেত কৃষকেরা। সাথে অমানুষিক দৈহিক পরিশ্রম, লোকসান এবং চাষে রাজী না হলে অত্যাচার।
গাড়ী বোঝাই নীল গাছ এনে ফেলা হয় বড় বড় জলাধার বা চোবাচ্চায়। তারপর যাতে সেগুলো ভেসে না উঠে নিমজ্জমান অবস্থায় থাকতে পারে তার জন্য লম্বা লম্বা লোহার রড ও কাঠের গুঁড়ি ( log) সেগুলিকে চাপ দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। নির্দিষ্ট সময়ের পর ( ৭২ ঘন্টা?) রড সরিয়ে পাতা ভেজানো সবুজ জল বের করে দেওয়া হয় ড্রেনের মত নল দিয়ে আরেকটি চৌবাচ্চায়। অবশিষ্টাংশ যা পড়ে থাকে গাড় সবুজ জলের মত। সেই জলকে চাষীরা দল বেঁধে চৌবাচ্চায় নেমে পাড়ে হাত দিয়ে ধরে একত্রে পা দিয়ে ক্রমাগত জলকে নাড়াতে থাকে ( গাঁজা তোলা, fermentation) । তারপর আবার সবুজ রং এর নিসৃত জলকে ড্রেন দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। এই নিষ্কাষিত জল ক্ষেতে কাজে লাগে।
অবশিষ্ট যে গাড় অংশ পড়ে থাকে চৌবাচ্চায় কালচে পদার্থ সেটাই নীল। তাকে তুলে আর একটি পেতলের পাত্রে স্থানান্তরিত করা হয়। পিষে অতিরিক্ত জল বের করা হয়। আগুনে এর পর এই থকথকে স্পঞ্জি বস্তুটিকে ১/২ ঘন্টা জ্বাল দেওয়া হয়। তারপর গামছার মত পাতলা কাপড়ে সেটিকে ছাঁকা ( filter) হয়। প্রায় ১২ ঘন্টা ধরে। অবশেষে পাওয়া যায় নীল।
এই অমানুষিক, রক্ত জল করা অলাভজনক চাষ আর চাষীরা করতে রাজি হলনা, বিক্ষোভ আবার বাড়তে থাকল।‌ অবশেষে ১৮৬৯-৬০ এ হল নীল বিদ্রোহ। সিপাহী বিদ্রোহের মত আর এক বিদ্রোহ। ১ বছর চলেছিল। নীল চাষ বন্ধ হল।
সেই নীল গাছ যেমন আজ‌ও ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন জেলায় তেমনি নীলকর সাহেবদের বিভীষিকার নীলকুঠির স্মৃতিচিহ্ন আজ‌ও ছড়িয়ে আছে বিভিন্ন স্থানে। কিছু নীলকুঠি সংরক্ষিত হয়েছে সরকারি উদ্যোগে।
তারমধ্যে উল্ল্যেখযোগ্য হল বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার আমঝুপিতে।
দীনবন্ধু মিত্রেথ মতন আর কিছু ব্যক্তির নাম নীলচাষ ইতিহাসের সাথে যুক্ত হয়ে যায়। নীলদর্পণ নাটক শোনা যায় মধুসূদন দত্ত ইংরেজিতে অনুবাদ করেন কিন্তু এই অনুবাদের জন্য দেশদ্রোহিতার আইনে সাজা পান সেই ব‌ই এর প্রকাশক রেভারেন্ড জেমস লঙ ( যিনি প্রকাশন, বেথুন সোসাইটি, এশিয়াটিক সোসাইটি ও নানা সামাজিক কাজে যুক্ত ছিলেন, তার‌ই নামাঙ্কিত জেমস লঙ সরণি)। এইরকম ই আরেক ব্যক্তি জড়িয়ে আছেন নীলচাষ ইতিহাসের সাথে , তিনি মহাত্মা গান্ধী।
নীল বিদ্রোহ ও নীল চাষ স্তিমিত হয়ে আসার পরেও ১৯১৭ সালে গান্ধীজি নীল চাষীদের নিয়ে প্রতিবাদে জড়িয়ে পড়েন বিহারের চম্পারন জেলায়, যা চম্পারান সত্যাগ্ৰহ নামে খ্যাত। বিদেশ থেকে ফিরে গান্ধীজির সম্ভবত ভারতে তাঁর প্রথম আন্দোলন।
নীল চাষ এখন‌ও হচ্ছে। বাংলাদেশে। তবে সেই অতীত নির্মম বঞ্চনার ইতিহাস নিয়ে আর নয়।
বাংলাদেশের নীলফামারীর একটি গ্ৰামে। এক টন নীল উৎপাদন খরচ ২২ লাখ। বাজারমূল্য ৪০ লাখ।
লেখা : তড়িৎ যায়

****
তথ্যসূত্রঃ: বিভিন্ন ওয়েবসাইট

 #                    রাংতা পাড়ের  দেশ                    -------------------------                          তড়িৎ রায়...
10/01/2026

# রাংতা পাড়ের দেশ

-------------------------
তড়িৎ রায়






এক কাম করো সাব

দো কদম হম বড়ে দো কদম আপ

আজ পুরি রাত কে লিয়ে রাখ্ লো

কোই দিককত? নেহি না? তো চলো

অভি ছোড়ো ইয়ে সব বাতেঁ

‌‌ ভুল যায়েঁ গম, পুরানী ইয়াদেঁ

ডুবে দোনো নাশা মে,

চলো সিধা পার্ক স্ট্রিট

ক্যায়া করে মিঁয়া...

‌‌ গম ভুলে না ভুলে

সালোঁ কা হ্যাবিট

‌‌ ‌ ****

এগ্ৰিমেন্ট সেরে ফুটপাত থেকে

সোজা পার্ক স্ট্রিট বার

লিপস্টিক আবদারে দু-পাত্তর আবার

দিব্যি লাগছে বেশ ঘোরঘোর পরিবেশ

চাঁদনী রাত আর এই বাদশাহী রেশ

চেয়ে থাকে লোকজন অবাক দোকানদার

যেন পৃথিবীর মানুষজন সব কন্ট্রোলে আমার



কিন্তু কী হবে আমার লেখা? আমার স্টোরি?

বসের নির্দেশ? —-“...এই যে ভাই

ছাইপাঁশ নয়, ভালো লেখা চাই -

রিমেমম্বার, ডেডলাইন ট্যু ডেজ, দিস ফেব্রুয়ারি "





ছদ্ম-সিঁদুর-সিঁথি সঙ্গীনি

তন্বী তিথি সুভাষিনী

বলল, নো প্রবলেম স্যার,

আমি তো আছি‌ বাবু

বলিয়ে না যো ভি দুরকার

রোকড়া মিল যায়ে

তো কোই ভি কাম করা লে না

কোই মুশকিল নেহি , দেখ্ লে না

অব্ দের ফির কিঁউ

এবার সোজা চলো আমার ভ্যেনুউ...

‌‌ *****

চাঁদ আলোয় সদর স্ট্রীট প্রকান্ড বাড়ি

সারি সারি অগুনতি ঘর অলৌকিক পুরী

মন্ত্রপূত রাত রাস্তা যেন স্বপ্নজাল

ধু ধু শূন্য চারিদিক রাস্তা টালমাটাল

বারান্দার অলিগলি কাঠের সিঁড়ি

দ্রুত পায়ে হাত ধ'রে রাংতা পাড় শাড়ি,

বারান্দা শেষে, অবশেষে, এক চিলতে রুম

তখন জ্যোৎস্না কাল, রাত নিঝ্ঝুম

নিভে যায় বাতি

রাত্র ঘনায় আদিম বিছানায়...

অন্ধকার নেমে আসে ঘরে

তবুও জ্যোৎস্না জাল প্রবেশ করে

তন্দ্রার মত করে

ধূসর বা হলুদ রং ধরে –

তারপর বিভাষিত হয়,

শরীরের গন্ধ পেয়ে হয়ে ওঠে বাঙ্ময়..



এবার তিথি শেষ ঢোঁকে সবটা গিলে

হঠাৎ গলা জড়িয়ে বলে উঠল-

" শুনো না আরে ইয়ার

ফির‌ সে লা দো না বিয়ার

‌‌তুমি কেমন মানুষ যেন -- ভাব একটু বেশি

তোমায় খুব ভালোবাসি

দেবে পুজোর শাড়ি ? আর পাঁচশো বেশি?”



তিথি অবলীলায় একজন বেগানা

পুরুষের সামনে

বকফুলের মত নরম শরীরে

কলকা’র মত ঢেউ তুলে শুয়ে পড়ল…

খসে যায় আঁচল, বাহুল্য বসন

প্রকাশিত হয় অনেকটা গড়ন

‌ খাজুরাহী আবেদন শরীর জুড়ে

যুবতী আলুথালু যৌবন ভারে

‌‌ ‌ নয়ন রেখায় রূপটান হালকা কাজল

বিছানায় অধীশ্বরী তিথিই আসল

চুলোয় যাক লেখালেখি ফীচার স্টোরি

সামনে নড়ছে চড়ছে যা বরং পরখ করি

কীভাবে তিথি তার ভাষ্কর্য শরীরে

ধীরে ধীরে সুধা প্রান সঞ্চারিত ক'রে

দেহের চড়াই উৎরাই আর পাক দন্ডী শেষে,

নরম লতিকা বন বা গরম নিঃশ্বাসে

নতুন 'অন্যরকম ' মানুষ পেয়ে কেমনে

হারিয়ে গেল তিথি কে জানে

বোধহয় প্রেম, এই কি প্রথম?

মানুষের মনের কথার কত যে নিয়ম –

" বলতো লোকে ব‌ইয়ের পোকা

কলেজ পা, তবু মায়ের বকাঝকা

এদিকে আয় জুড়িয়ে যায় আয় বলছি তাড়াতাড়ি

আমি তখন অনেক দূরে কল্পনায় শহর পাড়ি



হঠাৎ এল উসকো চুল

পাঞ্জাবিতে, ব‌ই হাতে ,

বাড়িয়ে দিল গোলাপ ফুল –

“অনেক ব‌ই অনেক লেখক

ঘুরতে যাবি শহরটা? “

ভাসিয়ে দিয়ে আমার দু’ কুল

‘মরণ’ আমার লিখে গেল

নয়ন হরন সেই ছেলেটা

ভাসতে ভাসতে . চলে গেলাম.

কলকাতায়, ব‌ইমেলায়

ভীড়ের মধ্যে আলগা বাঁধন, হাতটা ছেড়ে চলে গেল প্রথম প্রনয় কালবেলায়

বুকের মধ্যে আর্তনাদ শূন্য মাঝে আমি একা

রাতের শহর কলকাতা

হাত ধরলো অন্য লোক, ‘সহৃদয়’প্রথম ক্রেতা

আবার আমি হারিয়ে গেলাম ফুরিয়ে গেলাম বা বিক্রি হলাম

এই শহর সেই শহর

কোথায় কোথায় কে জানে

এভাবেই নিখোঁজ হলাম

ফুলের সঙ্গে ছিল কাঁটাও

কাঁটায় কাঁটায় বিদ্ধ হলাম

কান্না জমল গলার কাছে

কান্না জমে পাথর হল

নিয়ম যেমন এই পেশায়

কেন এমন হয়! ভালো স্পর্শ পেলে জানো এখনও খুব কান্না পায় !

লেখক তুমি সেই তো এলে

কেমন হতো অনেক আগে তোমার সঙ্গে দেখা হলে …

এই রাত থাকুক আমার

তুমি তো আসবে না ফিরে বারবার…”

দেখো তো কত যে সময় নিলাম,

স্মৃতি‌দের কেন যে আসতে দিলাম

তুমি কী! তুমি তো থামাবে!

তোমার , কাজ কর্তব্য আগে

" দোহাই তোমার এগিও না আর

তোমার জন্য আছি আমি চিরটাকাল

এই ঘর দোর সব তোমার অবারিত দ্বার

একটি পয়সাও কোনোদিন নিতে পারবোনা আর

" চুক্তিবদ্ধ, যা বলবে বাধ্য আমি

কিন্তু কাতর অনুরোধ, আজ নয়,

আমার যা হয় হোক তোমার সাফল্য আগে

পুরুষের নাম যশ সাফল্য কী যে ভালো লাগে “



" তুমি লেখক,আমার ভ্যুলোক আমার দ্যুলোক

দেখতে চাই না ওগো একটা পথভ্রষ্ট লোক “

আজ নয়, আর নয়, আমি অসহায়

ভেঙোনা বিশ্বাস, ভেঙোনা হৃদয় “

মস্তিষ্কে জাগ্ৰত হয় রতি

রাংতা পাড়ে আগুন জ্বলে

কাঁহাতক সংযম সংগ্ৰামে থাকা যায়

কোথা গেল রিপোর্টারি কোথা গেল স্টোরি

আজ কোনো কথা নয় -- সব, সবটা হবে শরীরী

দেয়াল ছেড়ে মরালী গ্ৰীবা এখন আমার কোলে

ভেঙ্গে যাক ছুৎমার্গ ভেঙে যাক ক্লেদ

সামনে পড়ে থাকা গোটা শরীরে মন দিলাম

প্রতিটি রহস্য তিলে তিলে করতে হবে ভেদ

আমার আমার নিশ্চিন্ত ব্যবহার্থে রক্ষিত

বস্তটি এখন সামনে শায়িত সমাহিত

‌‌ মনে হল চন্দ্রিমা তনয়া তিথি

নিজেকে করল সম্পূর্ণ পেশ

নিয়ে যাও মোরে

যেথা হবে সাধ পূর্ণ সব পথ শেষ



" সাংবাদিক এ কোন গভীর অতল

‌ থেমে থাক সব শব্দ সব কোলাহল

প্রশ্ন ফুরিয়ে গেছে তোমার জানি আমি

কোথায় ডুবিয়ে দিলে এ কেমন মানুষ তুমি

‌ চাই-না তোমার কাছে কিছু আর

বোঝো না কপট কলহ, নিছক আবদার



শীর্ণকায়ার সাদা জীর্ণ অন্তর্বাস ধরে টান মারতেই সামনে বিশ্ময় অপার,

শরীর সমুদ্র তলে নিবিড় অন্ধকার

জীর্ন বসন শীর্ন তলপেট গরীব গহ্বর

কী হল কেন হল জানি না,

মনে হল, হাতে উঠে আসল -- সত্যি! সত্যি!

তার দপদপিয়া হৃদয়,, ভুখা পেট,

হাড় পাঁজর মাস কিছু অস্থি ...

ভুত প্রেত মানিনা, কিন্তু ভুতগ্ৰস্থ আমি

ঘরের দেওয়াল জুড়ে জ্যান্ত চেয়ে থাকে --

ম্যুরালের মত দেয়ালে গাঁথা

বিদ্ধ , ব্যবহৃত বিগত দিনের অসংখ্য যোনি

তখন ঘরে অন্ধকারে

টুকটাক শীৎকার, আবিষ্ট গোঙানি..

কঙ্কন শব্দ তিথির.ঘনঘন বাজে ঘরময়



কে তুমি আসলে বল বারবনিতা ?

হৃদয়? নারী? তিথি? না ক্ষুধা?

কাঁহা সে আয়ি? যানা হ্যায় কাঁহা?

সেই কোন যুগ থেকে কেন

আজ‌ও এইখানে



সভয়ে ছিটকে পিছিয়ে এলাম

এবার পিছানোর পালা

হৃদয় থাক, অস্থি থাক ,

আমার তখন মরন বাঁচন

পলাতক ভীত শঙ্কিত প্রান

অছিলায় বিছানা ছেড়ে

দরজার দিকে এগোতেই বুঝলাম

পেছনে লম্বা হাতের এক টান -

"বসো বিছানায়

চারিদিকে পাহারায় লোক, পালাবে কোথায়?



“অসুবিধা কি বল ?

মি, ইউ, অর টাকায়?

কি! জবাব কোথায়?"

সুন্দরী ফর্সা মুখ গনগনে আঁচ

মুহুর্তে দখল নিল ঘরের রাজ্যপাট

চোখের জলগুলো

কাজল দুয়ারে এসে এখন বিন্দু বিন্দু কালো

আমার অধঃপতিত শরীরে তখন ভয় বিশ্ময় ,

' কাজ আছে.. তাড়াতাড়ি যেতে দাও আমায়'



‌ ‌ তৎক্ষণাৎ তীক্ষ্ণ স্বরে

ধেয়ে আসা হুঙ্কার ধ্বনিত হয়,

" এই, এই, শোন্ , এদিকে আয়

" কি কাজ এত রাতে? সত্যি টা কি? ভয়?

‌‌ কি জন্য এসেছিলি ? কোয়েশ্চন কোথায় ?

চান্স পেলি , লোভ হল, ঢুকে পড়লি শরীরী

গুহায়!

“ কিন্তু ভয় ! বীর পুরুষ যদি ধরা পরে যায়

নারীর আসল সময়...

লজ্জা লাগে না? বুঝিসনা সব বোঝা যায় ? "

“ ঘটা করে আসলি তবে কেন কাছে ?

সব কি তোর ছেলেখেলা আছে?

সাধ ছিল এই রাত, স্বপ্ন ছিল কত

জ্বালিয়ে দিলি পুড়িয়ে দিলি ওই ছেলেটার মত

" “ মহান দরদী, দ্রুত সাজালি নাটক

ওই মহার্ঘ সময়

এভাবে কি সব ঢাকা দেওয়া যায় ?

কে চায় তোর দরদ ? ফালতু বেকার লোক

তিথি তার বুকে জোরে জোরে আঘাত করতে থাকে,

" এই যে সাংবাদিক

বুকের নীচে কী আছে এইটা বুঝিস? “

ঘর জুড়ে বুকের শব্দ ছড়িয়ে পড়ে ,

জ্যান্ত ম্যুরালের মত মুখ গুলো হেসে ওঠে জোরে-

“ আহা আমার যাত্রার বিবেক গো

মার্কসের বংশধর আর গোর্কির পো

"আর আসবি বল কখনো এ পাড়ায়?

যদি আটক রাখি হোল নাইট

শালা দেখি কে ঠেকায়! "

মেঝেতে আমি স্থির দন্ডায়মান

বিছানা ছেড়ে মেঝেতে দেড় ফুট স্থান

কীভাবে পাই নিস্তার

দুজনের মাঝে ভাসমান শুধু আঁধারী বিস্তার

ঘড়ি, ফোন , পার্স, টাকার খাম

মনে মনে স্পর্শ করলাম

চুপচাপ চুক্তির এক গোছা নোট

বিছানায় রাখতেই তিথি বলল .." ফোট"

"শুন্ আমার নাম তিথি

মাগনা কে খায়, কৌন ?

তুঝসে ভিখ্ মাঙ্গা হ্যায় ক্যা?

ওযাক্ত বরবাদ, উঠা, উঠা,

আমার তরফে তোর ব‌উকে দিস,

উঠা তোর টাকা “

বলে তর্জনীর ডগা দিয়ে টাকার গোছায় তাচ্ছিল্যে টোকা মারল, হাওয়ায়

টাকা ছড়িয়ে পড়ল মেঝেতে খানিক রয়ে গেল বিছানায়

“ডরপুক ! এক কড়ি মূল্য নেই তোমার,

যাও বিদায়! “

‌‌ ****

ধরনী দ্বিধা হ‌ও অপমানে নীল নীল গন্ধ

তবু মুক্তির স্বাদ আলাদা

রাত তখন দু প্রহর পার হয়ে তিন প্রহর

বারান্দা পেরিয়ে সিঁড়ি দিয়ে পাক খেয়ে নামতে নামতে মনে হল

এই পৃথিবীতে এখন একটাই শব্দ বেঁচে আছে -- সে হল আমার পদধ্বনি

আর সেই পদধ্বনির প্রতিধ্বনি ক্রমশঃ বিরাট আকার ধারন করে রাতের প্রকান্ড বাড়ির প্রতিটি কক্ষ কে, প্রতিটি তলকে, বলে চলেছে যে, কেউ পালাচ্ছে

গোটা বাড়ি শুনশান --সব কুঠুরী বন্ধ

সময় যেন জমাট পাথর,

বিপদ হলেও নির্বিকার

উদাসীন অন্ধ

অবশেষে একদম শেষ ধাপ

সামনে বিশাল লৌহ কপাট

লেকিন বন্ধ গেট , দর‌ওয়াজা '

পাহারায় বিপুলদেহী গেটের রাজা

এই বাড়িতে রাত ফুরোনীর নির্ঘন্ট মেনে কাজ চলে

অত‌এব কাস্টমারের বাইরে নিষ্ক্রমণ নিষেধ পলায়ন অসম্ভব যে কোনো ছলে

ফটকের গায়ে বাবুয়ানি আঙুলের

আওয়াজ লোহার পাহাড় ডিঙিয়ে

বাইরে পৌঁছয় না,

তিথির কথা মত , মনে হল আজ

আমি বন্দী, এক ভীতু, ঠকবাজ।

****

****

ইসি সময়ে উয়ো আয়ি - তিথি

পিছা পিছা

কব আয়ি নেহি পাতা

তিথি আওয়াজ দি, দর‌ওয়ান কে সাথ বাত হুয়ি

ফিসফিস করে কী কথা হল জানি না

শুনতে পেলাম, ছোড়ো জানে দো

অউর এক ট্যাক্সি বুলা দো সাব কো

বহত দূর সে আয়া

কুছ কাম হ্যায় উনকা, ফস্ গয়া বেচারা

ট্যাক্সি তে আমার সাথে ও ঝটপট উঠে পড়ল

তুমি যাবে কোথায় এত রাতে ?

"শোনো রাস্তায় কিছু হতে পারে

জায়গা ভালো না

আমি থাকলে কেউ কিছু বলবে না "

ও হাজরায় নেমে গেল

ফিরবে কীসে তিথি?

একলা তুমি এইখানে?

"আমাদের কিছু হয় না "

ফেরার টাকা, শাড়ির দিতে গেলাম

ফিরেও তাকাল না

গেট খুলে নেমে গেল

“ সাবধানে যেও ”

মস্তিষ্কে প্রদাহ চলে

যে জলে আগুন জ্বলে

অসহায় অপমান দমিত ইগো

দুরমুশ হয়ে ট্যাক্সির সাথে চলে।

খোলা জানালার হুহু বাতাসে

বাড়ির কথা ভাসে,

কত অপরাধ যে একসাথে ঘটে

কখন যে অলৌকিক ভাবে সব ঘটে যায়

সব কিছুর বাঁধা ধরা নিয়ম হয় না

বাতাসের স্রোতে শুনতে পাই শিশু কোলে শ্রীলেখার সান্ধ্য শঙ্খধ্বনি তিন তিন বার

বারান্দায় দীর্ঘশ্বাস - মলিন শাড়িতে

জননী আমার

ফিরতে হবে ফিরতেই হবে

সোজাসাপ্টা সরল জীবন রেখায়

আবার আর পাঁচজনের মত

গুরুদেব, উৎসব, দীক্ষা, ব্রত

থলে নিয়ে ছুট এটা কত ওটা কত

আড্ডা আসর বৌকে আদর

আড়চোখে সুন্দরী রমনী

নেমন্তন্ন পত্র হলুদ খামে

কন্যা জায়া জননী সনে

পুনরায় সংসার একসাথে পুরোদমে

****

****

এভাবেই বছর যায়

শরীর জুড়ে মাঝে মাঝে তবু কান্না নামে

কখনও গভীর রাতে মালকোষ রাগে

যখন রাংতা পাড়ে আসে তিথি

তেতলার বিছানায় বসে এক কোনে ,

“ কি হল শুনি , কেন এত ডাকাডাকি?

জানো না কত কাজ আমি কি ফ্রী নাকি



শোনো এসব কাব্যি ছাড়ো, কী লাভ বল

একটা কথা বলি

এসব হল নরম পাক আবেগের

কালটিভেটেড মেলানকলি

ওসব বাবুদের লেখার রসদ

তার চেয়ে দু চারটে গালি দাও ,

মিটে যাক সেদিনের প্রতিশোধ!

কিছু নিশাচরী রাত-কান্না,

কিছু কাব্যিক মগজ ভুনা, কিছু গবেষণা

শেষমেশ অবশেষে

সব মহৎ বীর পুঙ্গবের গন্তব্য নীড় ,

খোঁজ এক…

শরীরেই উত্থান শরীরেই শেষ,

সেই জঙ্ঘা, যোনি, কটিদেশ,

এবং অন্তর্বাস …

শতাব্দী প্রাচীন সেই চেনা ছক -- সেই সিলেবাস

খুব বকলাম তাই না ? মিছিমিছি গো! সরি

সে রাতেও বকেছিলাম ভারি!

পড়ে আছে স্মৃতি অনেক

এসো কাছে, ডরপুক, আমার লেখক

কি করব বল, অনেক পথ চলা যে বাকি

এখনো আমার

শত শত বছর শত শত বার

মিটিয়ে যেতে হবে

অভাগা জন্ম-কর্জ ভার

ডাকলেই আসবো তোমার পাশে

সাড়া না দিয়ে পারি, বল? বিশেষত মালকোষে

সময় বেশি নেই , একটুখানি

কারন আমি এখন

ওই দেয়ালে নতুন সদস্য

হাঁ মুখ আর এক বিদ্ধ যোনি “

“ আসি গো এবার?

ভালো হোক শ্রীলেখার

বারাসতে প্রতীক্ষায় মা' টা আমার

দেখি যদি পাই নতুন কাস্টমার”।

© তড়িৎ

22/12/2025

দিনান্তে
----------------

এই, এই, এত ছোট্ট এক মানব জীবন
তবু শেষ‌ নমষ্কারে এত আয়োজন?

কত স্মৃতি, কত শোক, স্রোতের জীবন
কোলাহল, কথা স্বপ্ন, বিষয় সঙ্গোপন
ঘোর ঘোর, জীবনের আধেক যাপন,
ফেলে যাওয়া স্মৃতি সুখ,নাভিমূল স্তন
মাধবীলতার খোলা চুল গভীর গহন
বাপের দীর্ঘশ্বাস, মায়ের ক্রন্দন
স্মৃতি সুখ, স্মৃতি সুখ, ব্যপ্তমায়া সন্তান বন্ধন
চোরাবালি জাগতিক তবু অশ্রু পতন

এক ক্ষন, দুই ক্ষন, তিনটি ক্ষন
শৈশব, যৌবন, আর‌ দুদন্ড যাপন
ক্রমে ক্রমে পাল্টে যায় মায়াবী জীবন
চেয়ে দেখো আশপাশ শুধু তুমিই এখন।

কিছু হাসি, কত কান্না, কিছু উদযাপন
কল্লোল, সশব্দ, সেই সময়ের বেতন
উপল ব্যথিত গতি মানবজীবন
চেয়ে দেখো আশপাশ শুধু তুমিই এখন।।
@তড়িৎ

23/05/2025

# কমরেড

তড়িৎ রায়

শক্ত শক্ত কথা বলো
শব্দ-শব্দ খেলা করো
অর্থগুলো কেউ বোঝেনা
মানেগুলো উচ্চতর
হারু নারু আমজনতা
ভয়ে তারা জড়োসড়ো
সুলভ- দামী কথাগুলোয়
নিজেদের‌ই বন্দী করো

মনিহারি পুতুল গুলো
আর তেমন বিকোয় না
শুকনো দামীকথাগুলোয়
মানুষ জনের পেট ভরে না

ঝাঁকা নিয়ে আর কদ্দুর
জিরোও বরং বড় রোদ্দুর
বেচাকেনার বেলাশেষ
তোমার তবে দিন কি শেষ?

র‌ইল পড়ে তোমার ঝাঁকা
তোমার ঝুলি সত্যি ফাঁকা?

চলে এসো, ছাড়ো এবার
নিজের সাথে শতেক খেলা
ঘুমের মধ্যে আজ‌ও হাঁটো
ঘুমের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে
ঠোকর খেয়ে রক্ত ঝড়াও
কপাল জুড়ে, নিজের সাথে

তন্দ্রারাতির দেওয়াল জুড়ে
মিথ্যাটাকে সত্যি দেখো
সত্যিটাকে কে মিথ্যা করে
নিজে নিজেই ছবি আঁকো

বিভোর বেঘোর মাথা খুঁড়ে
কি খোঁজো অন্ধকারে
আত্মকথা, তত্ত্বকথা ?
‘আমি, আমি’ কথকতা?
পুতুল গুলি ফেলো ছুঁড়ে
কালাদীঘির মাঝপুকরে
যাক ডুবে যাক চিরতরে

টালমাটাল ক্লান্ত হয়ে
শ্রান্ত হয়ে নিজের সাথে
বসার যখন সময় হলো
ঠান্ডা রাতি জমাট হয়ে
ভ্রান্ত তুমি জড়োসড়ো
পুরনো কাঁথা জড়িয়ে নিয়ে
আবার যখন ঘুমিয়ে পড়ো
আধো ঘুমের অলীক রাতে
আবার এসে কে বলে যায়
ছুঁড়ে ফেলো, চলে এসো

এবার ওঠো পথের জন্য
বাজাও তোমার পাঞ্চজন্য
বাইরে কারা তোমার আশায়
হাতটা বাড়ায় কৃষক চাষায়

তোমার সাথে পা মিলিয়ে
অন্দিসন্দি বুঝে গেছি
সন্ধি হয়েছে খিদের সাথে
সত্যিটা যে তাতেই আছে
আমরা তবু পথে আছি
সাদা কালোর ভেদটা বুঝি
পুতুল নিয়ে কি লাভ বলো
ছুঁড়ে ফেলে এবার চলো

হাতটা রাখো আমার হাতে
আমার পিছে কয়েকজন
লোটাকম্বল নিয়ে সাথে
ওদের পিছে আর কিছু জন
ওদের সাথেও কে কে আছে
হয়তো পিছু আরো জনগণ

এই যে আমরা তোমার সাথে
জ্বালিয়ে রাখো মনের আগুন
এক হাতে পাঞ্চজন্য,
অন্যহাতে পড়াও গুন
আমরা সবাই এক এক করে
একটি কৃষ্ণ একটি অর্জুন।।

07/02/2025

মহেঞ্জোদারো হারিয়ে যাওয়া রিপোর্ট

১৯২২ সালে মহেঞ্জোদারোতে খনন করে সিন্ধু সভ্যতাকে পৃথিবীর সামনে নিয়ে আসার কৃতিত্ব ছিল রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিন্তু তাঁকে বঞ্চিত করে ১৯২৪ সালে সমগ্র পৃথিবীর সামনে সেই আবিষ্কারের ঘোষণা হয়েছিল স্যার জন মার্শালের নামে। ভারতের ইতিহাসে তাঁর এমন বিশাল অবদানের পরেও, রাখালদাসের কাজ পরিপূর্ণভাবে অবহেলিত হয়েছে এবং তিনি চাকরি হারিয়ে বড় অল্প বয়সেই মারা যান। মহেঞ্জোদারো খননের রিপোর্ট তিনি বই হিসেবে প্রকাশ করতে চেয়েছিলেন কিন্তু সেই আশা তাঁর সফল হয়নি কারণ স্যার মার্শাল ঠিক সময়ে তাঁকে রিপোর্টটি ফেরতই পাঠাননি। রিপোর্টটি পুনরুদ্ধার হলেও তার ছবিগুলি মার্শালের কাছ থেকে কখনও পাওয়া যায়নি আর সেই কারণে এতদিন ধরে সেই রিপোর্ট ছিল অসমাপ্ত।
এই বইটি হল আধুনিক গবেষণার আলোকে রাখালদাসের মূল খনন প্রতিবেদনটির প্রথম বাংলা অনুবাদ। এর সঙ্গে বিস্তারিত নোট, ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট এবং নতুন আবিষ্কৃত তথ্য দিয়ে সমৃদ্ধ করে পাঠকদের জন্য সহজবোধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে। মার্শাল, ম্যাকে বা হুইলারের রিপোর্টের ছবি এবং সরাসরি মহেঞ্জোদারো থেকে কিছু ছবি তুলে এনে বইটি সর্বাঙ্গসুন্দর করে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

রাখালদাস বন্দ্যোপাধ্যায়র 'মহেঞ্জোদারো হারিয়ে যাওয়া রিপোর্ট' গ্রন্থটি সংগ্রহ করতে ক্লিক করুন এই লিঙ্কে: https://www.anandapub.in/book-details/5150

এই ফলটি কাঁচা অবস্থায় ভাজা বা রান্না করে খাওয়া যায়।‌ পাকা ফল কিছুটা মিষ্টি। পাকা অবস্থায় ফলটির রং এর সাথে নারীর সৌন্...
05/02/2025

এই ফলটি কাঁচা অবস্থায় ভাজা বা রান্না করে খাওয়া যায়।‌ পাকা ফল কিছুটা মিষ্টি। পাকা অবস্থায় ফলটির রং এর সাথে নারীর সৌন্দর্যের সাথে তুলনা করা হয়।
কুঁচ বরন কন্যা তার মেঘ বরন কেশ

এই সেই কুঁচ ফল।

Address

Kolkata

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when TARIT's page posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category