SHILPARAAG_by Sri Arka Das

SHILPARAAG_by Sri Arka Das Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from SHILPARAAG_by Sri Arka Das, Art Gallery, Nabadwip Dham Nadia, Nabadwip.
(1)

Wellcome to my artistic world...it's all about Sri Arka Das's art works... Mainly based on various types of indian art tradition or traditional Indian art and culture, like folk art style, patachitra and others

14/05/2026

Deities from Nabadwip Harisabha
Angaraag by : Sri Arka Das

১৯৩৩ সালে মহানামব্রতজী শিকাগো দ্বিতীয় বিশ্বধর্ম সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে মহানামব্রতজী সকল ধর্মের মধ্যে সনাতন ধর্মে...
12/05/2026

১৯৩৩ সালে মহানামব্রতজী শিকাগো দ্বিতীয় বিশ্বধর্ম সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে মহানামব্রতজী সকল ধর্মের মধ্যে সনাতন ধর্মের বিজয় পতাকা উড়িয়ে ছিলেন। তিনি বলেছিলেন,"সনাতনধর্ম ভদ্রলোকের ধর্ম।" তারপর বিভিন্ন সভাতে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।

১৯৩৮ সালে একবার কালিফোণিয়ার সানফ্রান্সিসকো শহরের মেথডিষ্ট চার্চে নিমন্ত্রিত হয়েছেন মহানামব্রতজী। সেই সভায় মহানামব্রতজীকে পাদ্রী প্রশ্ন করে, "আপনদের কালীদেবীর মূর্তি দেখতে অতীব ভীষণা, চারখানা হাত, প্রসারিত লোল জিহ্বা, বিবসনা। যার দর্শনেই আমাদের ভয় আসে, হিন্দুরা কেন এরূপ মূর্তি পূজা করেন?" পাদ্রীর এহেন উক্তি শুনে মহানামব্রতজী দারুন ব্যথা পেলেন। তিনি বললেন, "হায় হায় কানে বিশ্ব জননীর নিন্দা শুনতে হলো।"
তবুও মনের ব্যথা মনে চেপে রেখেই মিষ্ট বাক্য বলতে থাকেন-------"দেখুন, আপনারা ধর্মযাজক, একথা আপনাদের জানা উচিত যে, কারো উপাস্য দেবদেবী প্রতি এরূপ তাচ্ছিল্য বাক্য বলা সম্পূর্ণ অনুচিত।
মনে করুন এক ব্যক্তি আফ্রিকার কোনো উপেক্ষিত কোণে বাস করে। সে যীশু বা কালী কারো নাম জানেন না। তাঁর একপাশে রাখুন ক্রুশ বিদ্ধ যীশুমূর্তি আর অন্য পাশে রাখুন কালীমূর্তি। তারপর লক্ষ্য করুন সেইলোকের প্রতিক্রিয়া। দেখুন তিনি রক্তধার অঙ্গের যীশুমুর্তি দেখে বাপরে বলে চমকে উঠেন কিনা।
তাঁর মনে বিভীষিকা ভাব জাগাতে যীশুমূর্তি কম বলে মনে করবেন না। অথচ আপনার কাছে কিন্তু যীশু অতি মহান। জীবের তরে ক্রমে তাঁর আত্মদান অতুলনীয়। তবে দেখুন, যার যার ইষ্ট তার তার কাছে সুন্দর।ভক্তের নয়ন নির্মল,তাঁর চোখে সত্য ভেসে উঠে। সেখানে নেই কোন দ্বন্দ্ব। যে কালী দেখে আপনারা উপহাস করছেন, ভক্তের চোখ তিনি জগজ্জননী। লক্ষ লক্ষ লোক প্রেম পুলকিত অঙ্গে ভক্তিসিক্ত মনে তাঁকে জগদম্বা বলে ভজন করেন। যীশুখৃষ্টের ক্রূশবিদ্ধ মূর্তি খৃষ্টানদের কাছে সুন্দর, কালীমূর্তি সেই রকম ভক্ত হিন্দুর কাছে সুন্দর। সমস্ত সৃষ্টি প্রক্রিয়া যাঁর মধ্যে বিধৃত আছে। হিন্দুদের ঈশ্বর সৃষ্টি ও ধ্বংস দুই করেন পাশাপাশি। যিনি সৃষ্টি করেন, তিনি ধ্বংস করেন, তা না হলে সৃষ্টি ও ধ্বংসের জন্য একাধিক ঈশ্বরের স্বীকার করতে হয়। হিন্দুদের মা কালীমূর্তির হাতে খড়্গ ধ্বংসের প্রতীক, আবার অন্য হাতে বর ও অভয় কল্যাণের প্রতীক। আর তার বিবসনা মূর্তি সৃষ্টির প্রতীক। সারা ইউরোপ ও আমেরিকায় কোথাও এই কালীমূর্তির মত একটি মূর্তি খুঁজে পাওয়া যাবে না। কালীমাতার তত্ত্ব ভক্ত ছাড়া কেউ বুঝতে পারে না।"


ছবিতে : বৈষ্ণবাচার্য্য শ্রীশ্রী ডঃ মহানামব্রত ব্রহ্মচারী. নবদ্বীপ হরিসভা
অঙ্গরাগ সেবায় : শ্রী অর্ক দাস

একদিন অপরাহ্নে নবদ্বীপের সমাজবাড়িতে  ললিতা দিদি নিজ কক্ষের সম্মুখস্থ বারান্দায় বসে ,কয়েকজন ভক্তসঙ্গে  ভগবৎ প্রসঙ্গ আল...
11/05/2026

একদিন অপরাহ্নে নবদ্বীপের সমাজবাড়িতে ললিতা দিদি নিজ কক্ষের সম্মুখস্থ বারান্দায় বসে ,কয়েকজন ভক্তসঙ্গে ভগবৎ প্রসঙ্গ আলোচনা করছিলেন।

এমন সময় খড়দহের প্রভুপাদ শ্রীজীবেন্দ্র মোহন গোস্বামীজী সহ আরও কয়েকজন সেখানে এসে উপস্থিত হলেন। দিদি শশব্যস্তে‌ উঠে ওনাদেরকে আসন দিয়ে ,শ্রীঅঙ্গের কুশল জিজ্ঞাসা ‌করলে ,

প্রভুপাদ সংক্ষেপে উত্তর দিয়ে‌ বললেন__ সখীদিদি‌ ! আপনার কাছে একটা বিষয়ে নিঃসন্দেহ‌ হতে এসেছি। নিঃসঙ্কোচে বলবেন তো??

দিদি __ আমি এমন কি জানি প্রভু , যা আপনাকে‌ বলে আপনার সন্দেহ ভঞ্জন করবো!!

প্রভুপাদ __ আজ কোন শাস্ত্র সিদ্ধান্ত শুনতে আসিনি দিদি । বিষয়টি হচ্ছে নবদ্বীপে হরিসভায় ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন মহাশয়ের প্রতিমূর্তি প্রতিষ্ঠা সম্বন্ধে। এই মূর্তিটি নিয়ে কেবল নবদ্বীপেই নয় সমগ্র বৈষ্ণবমহলেই বাগ্বিতন্ডার সৃষ্টি হয়েছে। এই মূর্তিটিকে , নাকি অশাস্ত্রীয় ভাবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে!! আমি শিতিকন্ঠ বাচস্পতির নিকট হতে কিছু কিছু শুনেছি তবে আপনার কাছে‌ এই ঘটনার ইতিবৃত্ত জানতে এসেছি।

দিদি __ আমি তো স্বচক্ষে কিছু দেখিনি প্রভু ! তবে যেভাবে শোনা আছে তা হল __ হরিসভা নাম হয় অনেক পরে , ওটা ছিল মথুরানাথ পদরত্ন মহাশয়ের টোলবাড়ি। ঐখানেই নেহাল ক্ষ্যাপার ভবিষ্যৎ নির্দেশমত এক শুভক্ষণে ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন মহাশয় দ্বারা শ্রীশ্রীমন্মহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। তারপর ঐ টোলবাড়ির নাম হরিসভা হয়।

মহাপ্রভুর শ্রীমূর্তি প্রতিষ্ঠার পর পাঁচ -ছ বছর ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন মহাশয় পুত্র মথুরানাথের সাহচর্যে খুব আনন্দের সঙ্গেই প্রভুর সেবা করছিলেন ।
একদিন অপরাহ্নে নামের মালা হাতে নিয়ে বিদ্যারত্ন মহাশয় নাম করতে করতে হরিসভার‌ চতুর্দিক ঘুরে ঘুরে দেখছিলেন। সেই সময় একটি ঘরের মধ্যে নিজের একটি প্রতিমূর্তি দেখে পুত্র মথুরানাথকে জিজ্ঞাসা করলেন ___" ‌ মথুর ! এ মূর্তি এখানে কোত্থেকে এলো??

মথুরানাথ বিনীতভাবে বললেন ___ " একটি ভালো কারিগর পেয়েছিলাম , তাকে দিয়েই আমি ওটি তৈরি করিয়ে রেখেছি।"

বিদ্যারত্ন মহাশয় শুনে গম্ভীরভাবে একটু সময় কী যেন চিন্তা করলেন । তারপর বললেন ___ ‌‌ " তুমি তো শাস্ত্র পড়েছো মথুর ! ‌তুমি কি জানো না যে কোন মূর্তি অপ্রতিষ্ঠিত অবস্থায় ঘরে রাখতে নেই ! সেই দিন এই পর্যন্ত, আর কিছু না বলে চলে গেলেন।

প্রায় ১৬/১৭ দিন পর আবার বিদ্যারত্ন মহাশয় সেই ঘরের কাছে গিয়ে দেখেন যে ___ মূর্তিটিকে সেখান থেকে সরানো বা অন্য কোন ব্যবস্থা করা হয় নি। তিনি পুত্রকে ডেকে একটু ক্রুদ্ধভাবেই বললেন ____ " যদি একান্তই‌ তুমি ‌আমার এ মূর্তি এখানে রাখতে চাও , তাহলে‌ যত শ্রীঘ্রই সম্ভব যথাবিধি প্রতিষ্ঠা করে তবে রাখ।"

পিতৃদেবের আদেশ শ্রবণ করে , আনন্দে মথুরানাথের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো। কেন না তার মনোবাসনা পিতৃদেব পূরণ করে দিলেন।

মথুরানাথ একটি ভালো দিন দেখে যথাবিধি পূজার্চ্চনাদি করে মূর্তিটি শ্রীমন্মহাপ্রভুর পাদপীঠের পার্শ্বে স্বতন্ত্র আসনে স্থাপন করলেন।

প্রতিষ্ঠাকার্য সম্পন্ন করে পিতৃদেবকে সংবাদটি জানাতে ও প্রণাম করতে গিয়ে দেখেন ___ পিতৃদেব ‌তার ঘরে আসনের ‌ওপর স্থিরভাবে বসে আছেন। হাতে শ্রীনামের মালা , নয়ন উন্মীলিত। মথুরানাথ কিছু সময় জোরহাতে অপেক্ষা করে থেকেও যখন কোনরূপ সাড়া পেলেন না, তখন কাছে এগিয়ে গিয়ে বিশেষভাবে লক্ষ্য করে দেখেন যে , তার পিতার দেহে কোনরূপ স্পন্দন নেই , নয়নতারাও স্থির ।

অবস্থা দেখে বোঝা গেল , প্রতিমূর্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যারত্ন এ নশ্বর দেহ ত্যাগ করে নিত্যলীলায় প্রবেশ করেছেন। এখনও পর্যন্ত হরিসভায় শ্রীমন্মহাপ্রভুর পাদপীঠের একপার্শ্বে থেকে মথুরানাথের কীর্তি ভক্তগণকে‌ আনন্দ দিচ্ছে।

প্রভুপাদ ___ আচ্ছা দিদি! এভাবে ‌মূর্তি‌ প্রতিষ্ঠা এবং তার সেবা করা ,আপনি সমর্থন করেন কি??

দিদি ____ প্রভু! আমার ব্যক্তিগত সমর্থনে অসমর্থনে কি আসে যায়। তবে একটা কথা আমার মনে হচ্ছে ,যদি অভয় দেন তাহলে বলি।

প্রভুপাদ ___ আপনি তো জানেন দিদি , আপনার সিদ্ধান্ত আর কেউ না নিলেও আমি নেবই। তাই আপনি নির্ভয়ে আপনার প্রাণের কথা খুলে বলুন।

দিদি ____ যার কৃপায় , মথুরানাথ সাক্ষাৎ শ্রীগৌরসুন্দরের সেবা করবার সুযোগ পেলো , তার পূজা করা কি অন্যায়??
তারপর অন্য দিক দিয়েও তো বিদ্যারত্ন মহাশয় , মথুরানাথের জন্মদাতা পিতা এবং শাস্ত্রজ্ঞানদাতা গুরু। সে অবস্থায় যদি মথুরানাথ পিতৃদেবের প্রতিমূর্তি প্রতিষ্ঠা করেই থাকেন ,তাতে এমন কি দোষ হয়েছে বুঝি না।
এছাড়াও বিদ্যারত্ন মহাশয় যখন মূর্তি প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সঙ্গেই নিজ দেহ ত্যাগ করলেন । তখন আর কি দোষের কিছু রইলো! তবে আপনাদের শাস্ত্রে কি আছে আপনারাই জানান।

প্রভুপাদ ___ না দিদি! আর শাস্ত্রের কথা তুলে মন চঞ্চল করে দেবেন না। আপনার যুক্তিপূর্ণ সিদ্ধান্তই আমার কাছে যথেষ্ট।
এই কথা বলে প্রভুপাদ উঠে দাঁড়িয়ে বললেন ___ "আজ আসি দিদি, যদি থাকা হয় তবে আর একদিন আসবো।

(বন্ধুগোপী দাদার লেখনী থেকে)
ছবিতে: শ্রীশ্রী পন্ডিত ব্রজনাথ বিদ্যারত্ন মহাশয়
অঙ্গরাগ সেবায়: শ্রী অর্ক দাস

প্রায় দেড়শো দুইশো বছর আগের ঘটনা... নবদ্বীপে বিষ্ণুপ্রিয়া হল্টে নেমে বুড়োশিবতলা হয়ে পোড়ামাতলা যাবার যাবার যে সোজা র...
10/05/2026

প্রায় দেড়শো দুইশো বছর আগের ঘটনা... নবদ্বীপে বিষ্ণুপ্রিয়া হল্টে নেমে বুড়োশিবতলা হয়ে পোড়ামাতলা যাবার যাবার যে সোজা রাস্তাটা, তাঁর ওপরেই তখনকার নবদ্বীপের দুই শ্রেষ্ঠ স্মৃতির পন্ডিতের টোল ছিল। একটি ষষ্ঠীতলায় পন্ডিত ব্রজনাথ বিদ্যারত্নের টোল, যেটা আজকের সাধারণ গ্রন্থাগার (নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসু এখানে এসে বক্তৃতা করে গেছেন) এবং কাঁসারি পাড়ায় তাঁর সুযোগ্য পুত্র মথুরানাথ পদরত্নের টোলবাড়ি ছিল, আজ যেটা হরিসভা হয়েছে। উভয় টোলেই স্থানীয় এবং বাইরের বহু ছাত্র অধ্যয়ন করত। উভয় টোলেই ছাত্রদের থাকার জন্য অনেকগুলো ঘর ছিল। উক্ত পণ্ডিতদের বসতভিটা ছিল আগমেশ্বরী পাড়ায়। তাঁরা প্রতিদিন যথা সময়ে টোল বাড়িতে এসে ছাত্রদের পড়াতেন। পদরত্ন মহাশয়ের টোল বাড়ির আঙিনায় একটি প্রকাণ্ড কদমগাছ ছিল। গঙ্গাস্নানের যোগ উপলক্ষ্যে নবদ্বীপে বাইরে থেকে অনেক গৃহস্থ যাত্রী সাধু সন্ন্যাসী ক্ষ্যাপা ক্ষেপীর সমাবেশ হত, এখনও হয়।

একবার কাঁসারি পাড়ায় পদরত্ন মহাশয়ের টোল বাড়িতে সেই কদম গাছের তলায় একজন ষাট বছরের বৃদ্ধ আশ্রয়ে নিল। মাথায় লম্বা লম্বা চুল, গোঁফদাড়ি, লম্বা কিন্তু রুগ্ন দেহ। তার সম্বল বলতে একটা ছেঁড়া কাপড়ের ঝোলা। সারাদিন মুখে কি বিড়বিড় করে বোঝা যায় না। সারাদিন কোথায় ঘোরে, কি খায় কিছুই জানা যায় না। এটুকু জানা গিয়েছিল সে শ্রীহট্ট জেলা থেকে এসেছিল, নাম নিহাল দাস। সবাই তাকে নিহাল ক্ষ্যাপা বলে ডাকত।

নিহাল ক্ষ্যাপা সারাদিন কি যেন বিড়বিড় করতো। আর রাতদুপুর হলে চিৎকার করতো "আমার ঝোলা থেকে কে যেন একটি ঠাকুর নিয়ে গেছে!" আর কোনো কথা নেই। ওই এক কথা বারবার চিৎকার করতে থাকতো। আবার রাত শেষ হলে আবার সুর নরম করে বলতো "আমার ঠাকুর রেখে গেছে।" এই বলে ঝোলা কাঁধে নিয়ে কোথায় বেরিয়ে পরতো। রোজ রোজ এই একই ঘটনা চলতো। এদিকে তাঁর চিৎকারে টোলের ছাত্রদের ঘুম মাথায় উঠলো, সাথে পাড়ার লোকেরাও বিরক্ত হলো। তারা ভাবলেন ছাত্রগুলোই পাগলের সাথে রঙ্গ তামাশা করে, তাই তারা পদ্মরত্ন মহাশয়ের কাছে নালিশ জানালেন। পদরত্ন মহাশয় তখন ছাত্রদের সাথে কথা বলে বুঝতে পারলেন যে তারা নির্দোষ।

একদিন কাজের চাপে অনেক রাত হলে পদরত্ন মহাশয় আগমেশ্বরী পাড়ায় নিজের বাড়ি ফিরতে পারলেন না তাই টোল বাড়িতেই থেকে গেলেন। এদিকে রাত দুপুর হতেই যথারীতি ক্ষ্যাপার চিৎকারে তাঁর ঘুম ভেঙে গেল। তিনি আস্তে আস্তে উঠে ভোর পর্যন্ত সমস্ত ঘটনা দেখলেন। তারপর খ্যাপা কে গিয়ে ধরে জিজ্ঞেস করলেন সে কেন এভাবে চিৎকার করে সবাইকে বিরক্ত করে? তখন ক্ষ্যাপা তাঁর ঠাকুর চুরির কথা বলে। তখন পদরত্ন মহাশয় নিহাল ক্ষ্যাপাকে তাঁর ঝোলা থেকে ঠাকুর বার করে দেখাতে বললে ক্ষ্যাপা বললেন "সময় হলে ঠিক দেখতে পাবে" তারপর আবার বিড়বিড় করতে থাকে। পদরত্ন মহাশয় অনেক কষ্টে বুঝতে পারলেন যে ক্ষ্যাপা শ্রীশ্রীরাসলীলার পদই আবৃত্তি করছেন।

তারপর আরও একদিন পদরত্ন মহাশয়কে টোলবাড়িতে রাতে থেকে যেতে হল। সেইদিনও রাতদুপুরে একই ঘটনা। তখন পদরত্ন মহাশয় নিহাল ক্ষ্যাপাকে গিয়ে ধরলেন "কই আজ ঠাকুর চুরি দেখাতেই হবে।" তখন ক্ষ্যাপা তাঁর হাতধরে ঝোলার উপর দিয়েই টিপে দেখতে নির্দেশ দিলেন। পদরত্ন মশাই বিরক্ত হয়ে বললেন "তুমি বের করো না" ক্ষ্যাপা বললেন "বের হবার সময় হলে আপনিই বের হবেন।" অগত্যা পদরত্ন মহাশয় ক্ষ্যাপার নির্দেশ অনুসারে ঝোলার বাইরে থেকেই টিপে দেখলেন একটি শ্রীমূর্তির মত কি যেন রয়েছে। ক্ষ্যাপা কিন্তু নিজের মুখে বিড়বিড় করেই চলেছে কোন দিকে তার ভুরুক্ষেপ নেই। মাঝে মাঝে চিৎকার করছে "আমার ঝোলা থেকে যেন একটি ঠাকুর নিয়ে গেল।" এবার পদরত্ন মহাশয় চিন্তায় পড়লেন। রাত যখন শেষের দিকে তখন ক্ষ্যাপা চিৎকার করে বললেন "আরে আমার ঠাকুর রেখে গেছে।" পদরত্ন মশাই তখন ঝোলা টিপে দেখলেন সত্যিই দুটি ঠাকুর রয়েছে। তখন পদরত্ন মহাশয় তাঁকে বললেন "এ রহস্য আমাকে বলতেই হবে না হলে কিছুতেই ঝোলা ছাড়বো না।" তখন ক্ষ্যাপা তাকে কানে কানে কিছু বললে তেমনি উঠে চলে যান। ক্ষ্যাপাও ঝোলা নিয়ে বেরিয়ে চলে যায়।

এরপর থেকে পদরত্ন মহাশয় আর ক্ষ্যাপাকে "তুমি" বলে ডাকবেন না "আপনি" বলে সম্বোধন করে সম্বোধন করতেন। রাত্রে তাঁর সাথে বসে অনেক ভগবত কথা আলোচনা করতেন। এভাবে কিছুদিন কাটার পর একদিন ক্ষ্যাপা সন্ধ্যার সময় পদরত্ন মহাশয়কে কাছে ডেকে তার ছোলা থেকে ধাতুময় দুই মূর্তি ঠাকুর বের করে বললেন, "এইটি শ্রীরাধারানী আর এইটি শ্রীরাধারমণ। দেখো পন্ডিত রাতে আমার ঠাকুরকেও নিয়ে যায় বলে আমি অভিযোগ করতাম আসলে কেউ নিয়ে যায় না এই দুটো ঠাকুর এক হয়ে গৌর হয় আবার যথাসময়ে দুটো পৃথক হয়ে যায়। সময় হলে এই স্থানেই ঐ গৌরমূর্তি প্রকাশ দেখতে পাবে।"

এইসব কথা শুনে পদরত্ন মহাশয় মনে মনে চিন্তা করলেন খ্যাপা সাধারণ লোক নয়। সেদিন থেকে ক্ষ্যাপার উপর পদরত্ন মহাশয় শ্রদ্ধাভক্তি অনেকটাই বেড়ে গেল। ক্ষ্যাপার সাথে ধর্মতত্ত্ব আলোচনায় পদরত্ন মহাশয় ভাবে বিভোর হয়ে যেতেন। এই শ্রদ্ধা ভক্তি ও ভাব বিভোরতা দেখে একদিন শুভক্ষণে ক্ষ্যাপা পদরত্ন মহাশয় কে গৌরমন্ত্রে দীক্ষাদান করেন এবং তারপর দিনই কাউকে কিছু না বলে চলে যান।

( তথ্যসূত্র : শ্রীনিতাইদাস বাবাজীর স্মৃতিচারণায় পাওয়া যায়)
ছবিতে : শ্রীশ্রী রাধারমণ জীউ
অঙ্গরাগ সেবায় : শ্রী অর্ক দাস

"আমার বেলা যে যায় সাঁঝ-বেলাতেতোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে॥"Sri Rabindranath Tagore ©(Inspired from patachitra style) Medi...
09/05/2026

"আমার বেলা যে যায় সাঁঝ-বেলাতে
তোমার সুরে সুরে সুর মেলাতে॥"

Sri Rabindranath Tagore ©
(Inspired from patachitra style)
Medium: watercolor on paper
Size : A4
Year :8th may 2017

visvabharati

SRI SRI NATUYA GOUR SUNDAR Nabadwip Harisobha MandirAngaraag : Sri Arka Das
08/05/2026

SRI SRI NATUYA GOUR SUNDAR
Nabadwip Harisobha Mandir

Angaraag : Sri Arka Das

06/05/2026

Like SANU Da ... 🏵️

❤️

লাল পাঞ্জাবিতে এই ভদ্রলোকের নাম প্রিয়ম কাপরি। নিবাস বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।নগর সংকীর্তন পরিক্রমার দিন ...
04/05/2026

লাল পাঞ্জাবিতে এই ভদ্রলোকের নাম প্রিয়ম কাপরি। নিবাস বাঁকুড়া বিষ্ণুপুর, সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র।

নগর সংকীর্তন পরিক্রমার দিন হরিসভা মন্দিরে আলাপ। ভিড়ের মধ্যে হঠাৎ এগিয়ে এসে আমায় বললেন "দাদা আমি তোমার সাবস্ক্রাইবার" 😇🙏

ছবি তুলে দিলেন BandhuGopi দাদা।

শ্রীশ্রীনাটুয়া গৌরসুন্দরের নগর সংকীর্তন পরিক্রমা...
02/05/2026

শ্রীশ্রীনাটুয়া গৌরসুন্দরের নগর সংকীর্তন পরিক্রমা...

"গৌর হইল রাধারমণ"এই একই বৈশাখী পূর্ণিমার তিথিতেই দুই স্বরূপে প্রকট হয়েছিলেন তিনি...বৃন্দাবনে গোপাল ভট্টের প্রাণধন রাধার...
01/05/2026

"গৌর হইল রাধারমণ"

এই একই বৈশাখী পূর্ণিমার তিথিতেই দুই স্বরূপে প্রকট হয়েছিলেন তিনি...
বৃন্দাবনে গোপাল ভট্টের প্রাণধন রাধারমণ ও
নবদ্বীপে ব্রজনাথের প্রাণধন নাটুয়া গৌর সুন্দর

Address

Nabadwip Dham Nadia
Nabadwip
741302

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when SHILPARAAG_by Sri Arka Das posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category